
বিশেষ প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের সিভিল সার্জনকে কেন্দ্র করে জেলায় ফের নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সরকারি ও সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ একাধিক অনুষ্ঠানে তাঁর দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ ও শারীরিক উপস্থিতির ধরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুশীল সমাজ ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সম্প্রতি রামপাল উপজেলায় ‘ক্যান্সার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্যান্সার স্ক্রিনিং ও মূল্যায়ন সেবা’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. ফরিদুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মো. জাকির হোসেন। এছাড়া জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার, সমাজসেবা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা ও স্থানীয় সুধীজন এতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে ক্যান্সার প্রতিরোধ ও চিকিৎসা বিষয়ে চিকিৎসকরা পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করছিলেন। কিন্তু উপস্থিত একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রথম সারিতে আসন গ্রহণ করা বাগেরহাটের সিভিল সার্জন পুরো অনুষ্ঠানজুড়েই বারবার ঘুমে ঢুলে পড়ছিলেন। স্বাস্থ্য খাতের জেলার সর্বোচ্চ কর্মকর্তার এমন খামখেয়ালিপনায় অনুষ্ঠানে আসা অতিথিদের মাঝে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।
উপস্থিত সচেতন মহলের মতে, জেলা ও উপজেলার সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থা যাঁর ওপর নির্ভরশীল, তাঁর এমন শারীরিক ও মানসিক অবসাদ জেলার স্বাস্থ্যসেবার ভঙ্গুর দশাকেই ফুটিয়ে তোলে। স্বাস্থ্য খাতের দুর্বল ব্যবস্থাপনার জন্য তাঁর এই দায়িত্বহীনতাকেই দায়ী করছেন অনেকে।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এক প্রশাসনিক সভায় বৈঠক চলাকালে বারবার ফোন রিসিভ করা ও হাঁটাহাঁটি করে কথা বলার অপরাধে মন্ত্রীর ক্ষোভের মুখে পড়েন ওই সিভিল সার্জন। সে সময় তাঁকে ধমক দিয়ে মিটিং কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয়েছিল।
পরপর দুটি ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সচেতন নাগরিক ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে বাগেরহাটের স্বাস্থ্যসেবার মানবৃদ্ধি ও গতিশীলতা ফেরাতে বর্তমান সিভিল সার্জনকে অবিলম্বে অপসারণ করে একজন দক্ষ ও উদ্যমী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে।