
বিশেষ প্রতিনিধি: আকাশ পাল
বাগেরহাট জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্দেশনা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপের সঙ্গে সমন্বয় রেখে জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং বাগেরহাট জেলা পরিষদের উদ্যোগে মশক নিধন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, ছাদ, ড্রেন ও অন্যান্য স্থানে পানি জমতে না দেওয়া, নিয়মিত মশারি ব্যবহার এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার জন্য সর্বস্তরের জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি, বাগেরহাট সদর হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন এবং ডেঙ্গু মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বাগেরহাট জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ক্রয়ের জন্য প্রাথমিকভাবে দুই লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতির গুরুত্ব ও চিকিৎসাসেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় প্রয়োজনে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আরও অর্থ বরাদ্দের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের স্বাস্থ্যসুরক্ষা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে যে নির্দেশনা প্রদান করেছে, তা তৃণমূল পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; প্রতিটি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনকে সচেতন হতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং কোথাও যেন পানি জমে এডিস মশার বংশবিস্তার না ঘটে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় যাতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য জেলা পরিষদ তার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।”
তিনি বলেন, “পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি, বাগেরহাট সদর হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় আমরা আশাবাদী যে, তাঁর নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত হবে এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব হবে।”
বাগেরহাট জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বস্তরের জনগণকে সচেতন, সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।