
বিশেষ প্রতিনিধি:
জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার ‘প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র’-এ দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সেবামূলক কাজে নিয়োজিত থাকা ৭৪৫ জন কর্মীর চাকরি নিয়মিতকরণ এবং বেতন-ভাতা ও বকেয়া সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় তারা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। এই সংকট নিরসনে তারা আসন্ন ৯৫তম বোর্ড সভার দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন এবং এ সভায় সময়সীমা নির্ধারণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে দেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা, ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি, হেয়ারিং টেষ্ট, দৃষ্টি শক্তি পরিক্ষা, কাউন্সেলিং এবং প্রয়োজনীয় সহায়কমূলক সরঞ্জাম বিনামূল্যে প্রদান করা হয়ে থাকে। কর্মীরা জানান, তারা প্রায় ১২ থেকে ১৫ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে সেবা দিয়ে আসছেন। পেশাগত দক্ষতা ও দীর্ঘদিনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি স্থায়ী না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অন্যায্য।
আগের বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত ও জটিলতা
কর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ৯৩তম এবং ৯৪তম বোর্ড সভায় যোগদানপত্র গ্রহণের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও স্থায়ীকরণ প্রক্রিয়া অদ্যাবধি সম্পন্ন হয়নি।
আইন ও বিধিমালার বিষয়ে আলোকপাত করে কর্মীরা জানান:
দ্বিমুখী নীতি নিরসন: প্রতিষ্ঠানের অর্গানোগ্রাম বা পদ সৃজন ব্যতিরেকে ২৪ জনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলেও, একই শর্তে কর্মরত বাকি ৭৪৫ জনের ক্ষেত্রে কেন জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়।
আইন ও বিধিমালার অস্পষ্টতা: জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন আইন, ২০২৩-এর ২২(২)(ঘ) ধারা এবং ২০১৬ সালের চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী বেতন-ভাতা, ছুটি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার আইনগত ভিত্তি থাকা সত্ত্বেও বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটছে।
ভবিষ্যৎ পদ রাজস্বকরণ: পদগুলো রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত হলে নিয়মিত করা সম্ভব হলে, বর্তমান বিধির অধীনে বোর্ড সভায় আলোচনা করে কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা অবিলম্বে নিশ্চিত করা উচিত।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও সচিবের বক্তব্য
সার্বিক পরিস্থিতি ও কর্মীদের দাবির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জানান, তিনি ৭৪৫ জন জনবলের চাকরি স্থায়ী করার বিষয়টি দ্রুত সুরাহা করার জন্য ইতিমধ্যে সচিব মহোদয়কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
একই বিষয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও পরিচালনা বোর্ডের সভাপতি জানান, “আমরা আগামী ৯৫তম বোর্ড সভায় চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।”
কর্মীদের মূল দাবি
কর্মীরা স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা অন্যায্য বা বিশেষ কোনো সুবিধা চান না। তাদের দাবি হলো কাজের সঠিক মূল্যায়ন, অর্পিত দায়িত্বের স্বীকৃতি, কাজের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় দ্রুততম সময়ে স্থায়ীকরণের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা। দেশের প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে কর্মীদের এই ন্যায্য অধিকার দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।