
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গে পশু জবাই নিয়ন্ত্রণে যুগান্তকারী ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল নবনির্বাচিত রাজ্য সরকার। বুধবার এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এখন থেকে প্রকাশ্যে বা যেখানে-সেখানে গরু কিংবা মোষ জবাই করা যাবে না। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করে জেল ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
রাজ্য সরকারের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ১৯৫০ সালের ‘পশ্চিমবঙ্গ পশু হ/ত্যা নিয়ন্ত্রণ আইন’ এবং উচ্চ আদালতের পূর্ববর্তী রায়গুলো কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে।
শুধুমাত্র সরকার স্বীকৃত বা পুরসভার নির্ধারিত কসাইখানায় (Slaughterhouse) পশু জবাই করা যাবে।
প্রকাশ্য স্থানে কোনোভাবেই পশু জবাই করা চলবে না।
ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর এবং স্ত্রী-পুরুষ মোষের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট স্থান নয়, বরং পশুর শারীরিক সক্ষমতার প্রমাণপত্র থাকাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট পুরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং একজন সরকারি পশু চিকিৎসকের যৌথ অনুমোদনের ভিত্তিতেই এই সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে।
শর্তাবলী: পশুর বয়স ১৪ বছরের বেশি হতে হবে অথবা বার্ধক্য, স্থায়ী পঙ্গুত্ব বা কোনো দুরারোগ্য ব্যাধির কারণে সেটি কাজের অযোগ্য হতে হবে। প্রজননক্ষম বা সুস্থ পশু জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া হবে না।
অমান্য করলে জেল ও জরিমানা
নতুন এই নির্দেশিকা লঙ্ঘন করাকে ‘গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করা হবে। আইন অমান্যকারীদের জন্য।
সর্বোচ্চ ৬ মাসের কা/রা/দণ্ড।
১,০০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড।
আবেদনের সুযোগ: যদি কোনো ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ পশু জবাইয়ের অনুমতি দিতে অস্বীকার করে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে পুনরায় আবেদনের (Appeal) সুযোগ পাবেন।
সরকারি নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে যে, কসাইখানা বা সংশ্লিষ্ট স্থানে পরিদর্শনের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বাধা প্রদান করতে পারবেন না। পুরসভার চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সভাপতি বা পশু চিকিৎসকের অনুমোদিত প্রতিনিধিরা নিয়মিত তদারকি করবেন যাতে আইনের কোনো ব্যত্যয় না ঘটে।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপের ফলে রাজ্যে পশু হ/ত্যা নিয়ন্ত্রণে এক নতুন আইনি অধ্যায় শুরু হলো বলে মনে করা হচ্ছে।
ফাইল ছবি