
উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে স্পষ্ট জবাব চান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
বিশেষ প্রতিবেদক: জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন আইন, ২০২৩ কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হতে চললেও এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি ‘প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র’-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনে। আইনি বিধিমালার মারপ্যাঁচে তারা কি আজীবন ‘প্রকল্প’-এর আওতাতেই থেকে যাবেন, নাকি ফাউন্ডেশনের স্থায়ী রাজস্ব কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হবেন—এ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা। বিষয়টি নিয়ে ফাউন্ডেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও জবাব দাবি করেছেন মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একই সাথে এর পেছনে কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের ‘দুরভিসন্ধি’ নিহিত রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
আইনে চাকরির সুরক্ষার স্পষ্ট বিধান
জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন আইন, ২০২৩-এর ২২(২)(ঘ) ধারায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, নতুন আইন কার্যকরের মাধ্যমে ফাউন্ডেশন পুনর্গঠিত হলেও এর আওতাধীন—প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র,
প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট,কর্মজীবী প্রতিবন্ধী পুরুষ ও মহিলা হোস্টেল এবং প্রতিবন্ধী শিশু নিবাস—
ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন গঠিত ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে গণ্য হবেন।
এছাড়া, নতুন প্রবিধানমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত ৫ মে ২০১৬ তারিখের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ‘জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এর কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০১৬’-এর ভিত্তিতেই তাদের নিয়োগকালীন জ্যেষ্ঠতা ও চাকরির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
অন্যদিকে, ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট বিধিমালার ৩৪ নম্বর অনুচ্ছেদের (রহিতকরণ ও সংরক্ষণ) ৩৪.২ উপ-অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে— রহিতকৃত নীতিমালার অধীনে যেসব কাজ, প্রকল্প বা কর্মসূচি অনিষ্পন্ন রয়েছে, তা নতুন বিধিমালার অধীনেই নিষ্পত্তি করা হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিধানের মাধ্যমে পূর্বের প্রকল্প বা কর্মসূচিগুলোকে বাদ না দিয়ে নতুন আইনি ব্যবস্থার আওতায় এনে কাজের ধারাবাহিকতা ও কর্মচারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংশয় ও প্রশ্ন
আইনে স্পষ্ট বলা থাকা সত্ত্বেও কেন প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করে কেন্দ্রগুলোকে স্থায়ী রূপ দেওয়া হচ্ছে না—তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন কর্মীরা।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য:
”আমরা কি আজীবন প্রকল্পেই থেকে যাব? নাকি এর পেছনে কোনো প্রশাসনিক অস্পষ্টতা ও দুরভিসন্ধি কাজ করছে? আইনের ২২(২)(ঘ) ধারা অনুযায়ী আমাদের জ্যেষ্ঠতা ও চাকরির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে স্থায়ী প্রবিধানমালা প্রণয়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার বাস্তবায়ন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আমরা এর এক কথায় স্পষ্ট জবাব চাই।”
আইনি বাধ্যবাধকতা ও ভবিষ্যৎ পথরেখা
আইনগত দিক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে এসব কেন্দ্র বা কর্মীদের বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে দীর্ঘদিন ধরে নতুন প্রবিধানমালা আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত না হওয়ায় মাঠপর্যায়ে এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, দ্রুততম সময়ে প্রবিধানমালা বাস্তবায়ন করে সকল আইনি জটিলতার অবসান ঘটাতে হবে এবং তাদের চাকরি ফাউন্ডেশনের স্থায়ী প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর আওতায় সংহত করতে হবে।
ছবি এআই