
এম কে পারভেজ:
ক্ষমতা বা পদ-পদবি অহংকারের বিষয় নয়, বরং এটি একটি বড় আমানত ও পরীক্ষা—এমন জোরালো বার্তা দিয়ে সহকর্মীদের উদ্দেশে এক মনস্তাত্ত্বিক ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের এক সচেতন সহকর্মী। সম্প্রতি সহকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে দেওয়া এই বক্তব্যে তিনি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার এবং সহকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন।
বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, আল্লাহ যা চান তাই হয় এবং কেউ কারও রিজিক বা ভাগ্য আটকে রাখতে পারে না—এটাই আমাদের মূল ঈমান। কিন্তু এই বিশ্বাস কাউকে অন্যায় করার লাইসেন্স দেয় না। ক্ষমতা বা পদ মানুষকে অন্যদের ওপর ছড়ি ঘোরানোর জন্য দেওয়া হয়নি, বরং অধীনস্থদের আমানত হিসেবে দেখাশোনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অসহায়ের নীরবতা ও আল্লাহর বিচার: অনেক সময় জুনিয়র বা সাধারণ কর্মচারীরা চাকরি হারানোর ভয়ে বা সংসারের টানে মুখ বুঝে অন্যায় সহ্য করেন। তাদের এই নীরবতাকে দুর্বলতা ভেবে কষ্ট দিলে দুনিয়ার মানুষ না দেখলেও মহান আল্লাহ তা দেখেন। মানুষের চোখের পানি ও নীরবে করা আহাজারি আল্লাহর দরবারে পৌঁছাতে কোনো বাধা নেই। বক্তার মতে, যেকোনো প্রতিষ্ঠানে ৭০ শতাংশ মানুষই ভালো ও পরিবর্তনকামী। তবে অন্যায়ে অভ্যস্ত বাকি ৩০ শতাংশ মানুষের শক্তির উৎস হলো এই ভালো মানুষগুলোর নীরবতা। তাই অন্যায় দেখলে চুপ না থেকে ন্যায়ের পক্ষে কথা বলার সময় এসেছে।
সেবার প্রকৃত অর্থ: কেবল রোগীদের সেবা করাই নয়, বরং মানুষের মর্যাদা রক্ষা করা, দুর্বলকে আরও দুর্বল না করা, ক্ষমতা পেয়ে ক্ষমাশীল হওয়া এবং আল্লাহকে ভয় করাই হলো আসল সেবা। প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ এমন হওয়া উচিত যেখানে কোনো কর্মী ভীতসন্ত্রস্ত থাকবে না, বরং সবাই নিজেদের নিরাপদ মনে করবে।
বক্তৃতা বলেন আজ যার হাতে ক্ষমতা রয়েছে, কাল তাকেও অন্যের সামনে দাঁড়াতে হতে পারে। তাই ক্ষমতার অহংকার ভুলে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ভুলের উপলব্ধি হলে তা শুধরে নিয়ে ফিরে আসাই প্রকৃত মানুষের কাজ।
সবশেষে একটি সুন্দর, বৈষম্যহীন ও নিরাপদ সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলার আহ্বান জানান। যেখানে ক্ষমতা ভয়ের কারণ না হয়ে মানুষের কল্যাণের মাধ্যম হবে এবং মানুষ শুধু সেবা বা চিকিৎসায় নয়, সর্বোচ্চ সম্মান ও নিরাপত্তা লাভ করবে।