
ধুপছায়া ডেস্ক: লাইলি-মজনু কিংবা শিরিন-ফরহাদের প্রেমের উপাখ্যানকেও যেন হার মানালো রাজধানী ঢাকার দুই অবুঝ শিশুর কাণ্ডকীর্তি। পরিবারের অমতে ভালোবাসার টানে ঢাকা থেকে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে রাজবাড়ীর পাংশায় পাড়ি জমিয়েছে পঞ্চম ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া দুই শিক্ষার্থী। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, পাংশা মডেল থানা পুলিশের তৎপরতায় বর্তমানে তারা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। হেফাজতে থাকা অবস্থায়ও তাদের দাবি— “আমাদের দুজনকে যদি বিয়ে না দেওয়া হয়, তাহলে আমরা আ/ত্মহ/ত্যা করব।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোররাতে রাজবাড়ীর পাংশা থানা এলাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্সের গতিবিধি স/ন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ সেটিকে থামায়। সেখান থেকে তিন শিশুকে উদ্ধার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে তাদের ঘরছাড়া ও প্রেমের চাঞ্চল্যকর গল্প।
উদ্ধার হওয়া শিশুদের মধ্যে একজন পঞ্চম শ্রেণী এবং অন্যজন দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তারা মিরপুরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়াশোনা করে। তাদের সাথে থাকা অপর শিশুটি সম্পর্কে তাদের বন্ধু।
এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম জানান, ভোররাতে স/ন্দেহজনক অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সটি থেকে তিন শিশুকে উদ্ধার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তাদের মধ্যে দুজন প্রেমিক-প্রেমিকা এবং তারা পরিবারকে না জানিয়ে ঘর ছেড়ে পালিয়েছে।
ওসি আরও জানান, “আমরা ঘটনাটি জানার পরপরই শিশুদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছি। ঢাকার মিরপুর থেকে তাদের অভিভাবকরা থানার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তারা থানায় এসে পৌঁছালে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিশুদেরকে তাদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হবে।”
বর্তমানে শিশুরা পুলিশ হেফাজতে নিরাপদ রয়েছে বলে থানা সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর এমন কাণ্ডে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।