
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
সুশৃঙ্খল পরিবেশ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের ঈদের বিশেষত্ব ছিল দীর্ঘ ৩৬ বছর পর দেশের শীর্ষ দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একই জামাতে অংশগ্রহণ। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি প্রত্যক্ষ করতে সকাল থেকেই সাধারণ মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।
শনিবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ঈদের প্রধান জামাত শুরু হয়। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত সময়ের কিছু আগেই ঈদগাহ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাতারবন্দি হয়ে নামাজ আদায় করেন। জামাতে ইমামতি করেন প্রখ্যাত আলেম মুফতি আবদুল মালেক।
নামাজে অংশ নেন:
প্রধান বিচারপতি,মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ,বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও উচ্চপদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা
দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
জাতীয় ঈদগাহের মূল প্যান্ডেলে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির ধারণক্ষমতা থাকলেও পার্শ্ববর্তী সড়কসহ প্রায় এক লাখ মানুষ এবার নামাজে অংশ নেন। নারী মুসল্লিদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল পৃথক ও নিরাপদ প্রবেশপথ ও ওজুখানা। তীব্র গরম ও ভিড় বিবেচনায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিতে উপস্থিত ছিল দুটি মেডিকেল টিম।
রাষ্ট্রীয় অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (VVIP) উপস্থিতির কারণে পুরো এলাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল।
নজরদারি: সিসিটিভি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ।
তল্লাশি: নির্ধারিত প্রবেশপথ দিয়ে আর্চওয়ের মাধ্যমে মুসল্লিদের প্রবেশ নিশ্চিত করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী: পুলিশ ও র্যাবের বিশেষ টিম মোতায়েন ছিল।
নামাজ শেষে মোনাজাতে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর দুই শীর্ষ নেতার একই প্রাঙ্গণে নামাজ আদায়কে জাতীয় সংহতির ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।