
বিশেষ প্রতিবেদক
সময়ের প্রবাহে কেটে গেছে আড়াইটি দশক। যে পথচলা শুরু হয়েছিল একটি মহৎ স্বপ্নকে কেন্দ্র করে, আজ তা ২৫ বছরের এক দীর্ঘ, অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ ও সততার ইতিহাসে রূপ নিয়েছে। জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে দীর্ঘ ২৫ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে আত্মোপলব্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণে নিজের অভিজ্ঞতা ও ভাবনা তুলে ধরেছেন প্রতিষ্ঠানটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
সুদীর্ঘ এই কর্মজীবনে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের সেবা নিশ্চিতে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। নিজের কাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“আমি দাবি করি না যে অনেক কিছু করেছি, তবে এটুকু বলতে পারি—আমি আমার স্থান থেকে শতভাগ আন্তরিকতার সাথে চেষ্টা করেছি। কাজের সঠিক মূল্যায়ন আমি নিজে করার চেয়ে সহকর্মী ও সেবাগ্রহীতারা করবেন—সেটাই শ্রেয়।”
প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করার সংগ্রাম
কর্মজীবনের শুরু থেকেই ফাউন্ডেশনকে একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও নিয়মভিত্তিক সংস্থায় রূপান্তর করতে তিনি নিরলস চেষ্টা চালিয়েছেন। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে আইন, নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে তিনি সবসময় আপসহীন ছিলেন।তবে এই যাত্রা সবসময় কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। বিভিন্ন সময় ঘরে-বাইরে নানা প্রতিকূলতা, ভুল বোঝাবুঝি ও কায়েমি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। তিনি স্মরণ করেন, অনেক সময় কাছের মানুষদের কাছ থেকেও বিরূপতা এসেছে। তা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হয়—এমন কোনো কাজের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেননি বলে ব্যক্ত করেন তিনি।
অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা ও ভবিষ্যতের অঙ্গীকার-দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, কর্মক্ষেত্রে প্রতিটি দিনই ছিল শেখার সুযোগ। কাজের সুবিধার্থে নিজের উদ্যোগেই প্রতিনিয়ত দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। কাজের ক্ষেত্রে নানা ধরনের পারিবারিক ও সামাজিক বাধা থাকলেও, অনেক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীর অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেয়েছেন বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
২৫ বছরের দীর্ঘ পথচলায় অজান্তে কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা প্রার্থনা করে তিনি বলেন, ভালো যেকোনো কাজের সাফল্য মূলত পুরো দলের এবং সকল সহকর্মীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।
আগামীর প্রত্যাশা-কর্মজীবনের এই মাইলফলকে এসে পরম করুণাময় আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করে তিনি আশা প্রকাশ করেন—আগামীর দিনগুলোতে যেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আরও ভূমিকা রাখতে পারেন।পেছনের অর্জন ও ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বাকি সময়টুকু মানুষের সেবা এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে কাটাতে চান এই নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তা।