
নিজস্ব প্রতিবেদক
অফিসিয়াল কাজের বাইরে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ফোন করে ‘স্যার’ সম্বোধন না করে ‘আপা’ বলায় এক নাগরিকের ওপর চরম উষ্মা প্রকাশ করেছেন এক প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের কর্মকর্তা। ওই ব্যক্তি তার দপ্তরের কর্মচারী না হওয়া সত্ত্বেও তাকে কেন ‘আপা’ ডাকা হলো, তা নিয়ে টেলিফোনে বাগবিতণ্ডায় লড়েন ওই কর্মকর্তা।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, একটি বিশেষ প্রয়োজনে ওই কর্মকর্তার মোবাইলে ফোন করেন তিনি। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি ওই নারী কর্মকর্তাকে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই কর্মকর্তা। তার দাবি, তিনি কেন্দ্রের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, তাই তাকে ‘স্যার’ বলেই সম্বোধন করতে হবে। ভুক্তভোগী ব্যক্তি তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, তিনি ওই অফিসের কোনো স্টাফ বা কর্মচারী নন, বরং একজন সাধারণ নাগরিক; তাই ‘আপা’ বলাটা কোনোভাবেই অসম্মানজনক নয়। কিন্তু ওই কর্মকর্তা বিষয়টি মানতে নারাজ এবং একে তার পদমর্যাদার অবমাননা হিসেবে গণ্য করেন।
আইন ও শিষ্টাচার যা বলে:
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সময়ে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ সম্বোধন করা বাধ্যতামূলক নয়। সাধারণ নাগরিকরা কর্মকর্তাদের ‘আপা’ বা ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করতে পারেন। জনগণের সেবক হিসেবে কর্মকর্তাদের আচরণ হবে বিনম্র ও জনবান্ধব। কিন্তু প্রতিবন্ধী সেবা কেন্দ্রের মতো একটি সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার এমন অপেশাদার আচরণে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য:
ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তি বলেন, “আমি উনার অফিসের বেতনভুক্ত কোনো কর্মচারী নই যে উনাকে স্যার ডাকতে আমি বাধ্য। একজন মানুষ হিসেবে আমি তাকে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়ে আপা ডেকেছি। কিন্তু তিনি যেভাবে ক্ষিপ্ত হলেন, তাতে মনে হচ্ছে আমরা নাগরিকরা তাদের সেবক, আর তারা আমাদের প্রভু।”
বিশেষজ্ঞদের মত:
সমাজকর্মীরা বলছেন, বিশেষ করে যারা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিয়ে কাজ করেন, তাদের মানসিকতা হতে হয় অনেক বেশি উদার ও সহনশীল। সামান্য সম্বোধন নিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে এমন আচরণ তাদের পেশাগত দক্ষতার ঘাটতি ও অহমবোধেরই পরিচয় দেয়।
এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নাগরিক অধিকার রক্ষায় এবং সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণগত পরিবর্তনে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।