
ঢাকা প্রতিনিধি -সুমন
সকাল ৯টা বেজে ৫ মিনিট। সচিবালয়ের ফটক দিয়ে প্রবেশ করল প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী গাড়ি। প্রথা অনুযায়ী গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি নিজের দপ্তরে যাওয়ার কথা থাকলেও, আজ ঘটল ভিন্ন এক ঘটনা। সবাইকে চমকে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পায়ে হেঁটে প্রবেশ করলেন সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনে। লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি বেয়ে একে একে ঘুরে দেখলেন বিভিন্ন তলার মন্ত্রণালয়গুলো।
সাত-সকালে খোদ প্রধানমন্ত্রীকে নিজেদের দরজায় কড়া নাড়তে দেখে হতচকিত হয়ে পড়েন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আকস্মিক এই পরিদর্শনে অনেককেই অপ্রস্তুত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রী সহাস্যে সবার সালাম গ্রহণ করেন এবং হাত মিলিয়ে কুশল বিনিময় করেন।
প্রধানমন্ত্রী ৬ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে শুরু করে ষষ্ঠ তলা পর্যন্ত বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে রয়েছে:
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়,মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়,পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়,নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়,প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
এরপর তিনি ৫ নম্বর ভবনের গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং ৩ নম্বর ভবনের বাণিজ্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। প্রায় আটটি মন্ত্রণালয় ঘুরে দেখার পর তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ফিরে আসেন।
অপচয় রোধ ও দেশপ্রেমের আহ্বান
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী সরকারি সম্পদ রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি পরামর্শ দেন:
অপ্রয়োজনে লাইট বন্ধ রাখা এবং এসির ব্যবহার সীমিত করা।জানালার পর্দা সরিয়ে দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা।আসবাবপত্র ও অফিস কক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।
প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন,
”সরকারি সম্পদ মানেই দেশের সম্পদ। দেশকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসলে তা অন্তর থেকে ধারণ করতে হবে। এই দেশ আমাদের সবার, তাই এর সুরক্ষার দায়িত্বও সবার।”
পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী তার দপ্তরে কৃষি কার্ড সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেখানে কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে নিয়মিত দীর্ঘ সময় অফিস করছেন। এমনকি সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও তাকে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এই বিরামহীন কর্মতৎপরতার প্রভাবে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে চাঞ্চল্য ও গতি ফিরে এসেছে। মন্ত্রী ও সচিবদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিশেষ নির্দেশনাও জারি করা হয়েছে।