
স্টাফ রিপোর্টার- ঢাকা
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য জেবা আমিন খানের বাংলা ও ইংরেজির মিশ্রণে দেওয়া একটি বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। একই সাথে তাঁর এই অদ্ভুত শব্দচয়ন ও বক্তব্য দেওয়ার ধরণ নিয়ে খোদ স্পিকারও উষ্মা প্রকাশ করেছেন এবং আগামীতে ভালোভাবে প্র্যাকটিস (চর্চা) করে আসার পরামর্শ দিয়েছেন।
সংসদে দেওয়া তাঁর সেই আলোচিত বক্তব্যটি ছিল ঠিক এইরকম:
”16 Hundred miles of কাঁচা রাস্তা, …দ্য রাস্তাজ are very very bad situation। This is due to দুর্নীতি। That’s we have seen from previous রিজিম। দে হ্যাভ লুটেড, লিটারেলি লুটেড দ্য কান্ট্রি।”
সড়ক ও দুর্নী/তির সমালোচনা করতে গিয়ে বিপত্তি
সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে জেবা আমিন খান উল্লেখ করেন যে, দেশে প্রায় ১৬ শত মাইল কাঁচা রাস্তা রয়েছে এবং বর্তমান সড়কগুলোর পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক ও শোচনীয়। এই পরিস্থিতির জন্য তিনি সরাসরি ‘পূর্ববর্তী রেজিম’ বা বিগত সরকারের দুর্নী/তিকে দায়ী করেন। দেশের টাকা লুণ্ঠনের বিষয়টি বোঝাতে তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে বলেন, “দে হ্যাভ লুটেড, লিটারেলি লুটেড দ্য কান্ট্রি” (তারা দেশটাকে লুটে নিয়েছে, আক্ষরিক অর্থেই লুটে নিয়েছে)।
তবে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এভাবে বাংলা ও ইংরেজি মিলিয়ে ‘বাংলিশ’ ভাষায় কথা বলা এবং দুর্বল ব্যাকরণ ব্যবহারের কারণে মুহূর্তের মধ্যেই সংসদে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসির খোরাক ও তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয় তাঁর এই বক্তব্য।
স্পিকারের ক্ষোভ ও দিকনির্দেশনা
জেবা আমিন খানের এমন দায়সারা ও মিশ্র ভাষার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর সংসদের স্পিকার তাঁর এই কথা বলার ধরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। স্পিকার তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা এবং এখানে বক্তব্যের একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড থাকা উচিত।
ভবিষ্যতে সংসদে যেকোনো বিষয়ে বক্তব্য রাখার পূর্বে জেবা আমিন খানকে আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার ও ‘প্র্যাকটিস’ করার পরামর্শ দেন স্পিকার, যাতে আগামীতে তিনি আরও গুছিয়ে ও দায়িত্বশীলভাবে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেন।
ছবি সংগ্রহীত