
শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
পারিবারিক কলহের জেরে শরীয়তপুরে স্বামীকে নৃশং/সভাবে হ/ত্যার পর ম/র/দেহ টুকরো টুকরো করে গুম করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। তিন দিন ধরে মরদেহ ড্রামে লুকিয়ে রাখার পর, সেই মাংস অন্যের ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে গিয়ে শেষ রক্ষা হয়নি তার। তীব্র দুর্গন্ধে স্থানীয়দের সন্দেহের মুখে শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে গ্রে/প্তার হয়েছেন আসমা আক্তার নামের ওই নারী।
শনিবার (১৬ মে) শরীয়তপুরের চন্দ্রপুর এলাকায় এই রোম/হ/র্ষক ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত আসমা আক্তার তার স্বামীকে হ/ত্যা/র কথা স্বীকার করেছেন।
মোবাইল ফোনে প্রেম থেকে সংসার
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নি/হত জিয়া সরদার শরীয়তপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদ এলাকার বাসিন্দা এবং একজন মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। প্রায় আট বছর আগে পিরোজপুর জেলার মেয়ে আসমা আক্তারের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এটি তাদের দুজনের জন্যই ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের পর থেকে আসমাকে শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকার একটি ভাড়া বাসায় রেখেছিলেন জিয়া সরদার।
তদন্তকারী সূত্র জানায়, সম্প্রতি তাদের মধ্যে তীব্র পারিবারিক কলহ দেখা দেয়। এরই একপর্যায়ে আসমা আক্তার লোহার রড দিয়ে জিয়া সরদারের মাথায় আ/ঘাত করে তার মৃ/ত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর ঘটনা ধামাচাপা দিতে একটি ধারালো ছু/রি দিয়ে ম/র/দেহটি কয়েক খণ্ডে টুকরো টুকরো করে একটি ড্রামে ভরে রাখেন।
হ/ত্যা/কাণ্ডের তিন দিন পর, ম/র/দেহের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দিয়ে বাকি মাংসের টুকরোগুলো অন্য একজনের ফ্রিজে রাখতে যান আসমা। কিন্তু ততক্ষণে মাংস থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে স্থানীয় প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ তল্লাশি চালায় এবং অভিযুক্ত আসমা আক্তারকে আট/ক করে। পরবর্তীতে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুরো হ/ত্যা/কাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দেন। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।