
ধুপছায়া ডেস্ক
জনবান্ধব প্রশাসন নিশ্চিত ও সরকারের সার্বিক গতিশীলতা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বর্তমান মন্ত্রিসভার আকার আরও বড় হতে যাচ্ছে। ঈদুল আজহার পরবর্তী বাজেট অধিবেশন শেষ হওয়ার পরপরই এই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ এবং বড় ধরনের রদবদল হতে পারে বলে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। আর এই নতুন মন্ত্রিসভায় খুলনা অঞ্চল থেকে প্রতিমন্ত্রীর তালিকায় জোরালোভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে বিশিষ্ট ছাত্রনেতা ও খুলনা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলালের নাম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, যেসব মন্ত্রণালয়ে কাজের পরিধি ও চাপ বেশি, সেখানে কাজের গতি বাড়াতে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একজন মন্ত্রীর দায়িত্ব একটি মাত্র দপ্তরে সীমাবদ্ধ রাখার পাশাপাশি ত্যাগী ও হেভিওয়েট নেতাদের মূল প্রশাসনে যুক্ত করতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই উদ্যোগ নিচ্ছেন।
প্রতিমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে আজিজুল বারী হেলাল
খুলনার তৃণমূল রাজনীতিতে ব্যাপক জনপ্রিয় এবং রাজপথের লড়াকু সৈনিক হিসেবে পরিচিত সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল নতুন মন্ত্রিসভায় বড় চমক হতে পারেন। দলীয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র বলছে, তরুণ ও গতিশীল নেতৃত্বকে উৎসাহিত করতে সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে নতুন মুখ আনা হচ্ছে। সেই তালিকায় খুলনা থেকে নির্বাচিত এমপি আজিজুল বারী হেলালের নাম প্রতিমন্ত্রীর তালিকায় অবধারিতভাবেই শীর্ষস্থানে রয়েছে। এছাড়া প্রতিমন্ত্রীর দৌড়ে ফরিদপুরের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল এবং সিরাজগঞ্জের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলিমের নামও বেশ আলোচনায় রয়েছে।
টেকনোক্র্যাট কোটায় যুক্ত হচ্ছেন হেভিওয়েটরা
এদিকে মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট কোটায় আসতে পারেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং হাবিবুন নবী খান সোহেলের মতো ত্যাগী নেতারা। এছাড়া বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকেও নতুন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো আলোচনা চলছে।
পাশাপাশি হুইপের দায়িত্ব পালন করা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, পাবনা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ও দোহার-নবাবগঞ্জের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক এবং কুমিল্লার সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার নামও সম্ভাব্য তালিকায় আলোচনা শুনো যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, কবে নাগাদ নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নাম চূড়ান্ত ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ার বিষয়টি এক প্রকার নিশ্চিত।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন,
”এ বিষয়ে দলীয় ফোরামে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। এটি সম্পূর্ণভাবে দলের চেয়ারম্যান ও সরকারপ্রধান তারেক রহমানের এখতিয়ার। তিনি কখন কাকে মন্ত্রিসভায় নেবেন বা কোথায় দায়িত্ব দেবেন, সেই সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন।”
সূত্র: এশিয়ান পোস্ট