
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের “ঢাকা বিভাগের ৭ জেলায় নদী বিধৌত চরাঞ্চলে প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প”-এর পরিচালক ডা. আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকা উৎকোচের অভিযোগের পর এবার উঠে এসেছে আরও গুরুতর ৩টি অভিযোগ।
মেয়ের ক্যান্সারের অজুহাতে চাঁদাবাজি
সূত্র বলছে, ৫ আগস্ট ২০২৪ এর আগে ডা. রহিম নিজের মেয়ের ক্যান্সারজনিত অসুস্থতার কথা বলে অধিদপ্তর থেকে অফিসিয়াল চিঠি ইস্যু করেন। সেই চিঠি ব্যবহার করে তিনি অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও মাঠ পর্যায়ের অফিসারদের কাছ থেকে “সহযোগিতার” নামে লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই চাকরি বাঁচাতে বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন।
আগস্টের পর ‘আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ’
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ডা. রহিমের জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আগে সাধারণ জীবনযাপন করা এই কর্মকর্তা এখন দামি গাড়ি, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও প্রভাব বিস্তার করে চলছেন। স্থানীয়রা বলছেন, “৫ আগস্টের পর তিনি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছেন।” বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিমন্ত্রীর বন্ধু পরিচয়ে দৌরাত্ম্য
সবচেয়ে বড় অভিযোগ, ডা. রহিম নিজেকে বর্তমান সরকারের একজন প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ “বন্ধু” হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রশাসনিক কোনো দায়িত্ব বা নির্দেশনা না থাকা সত্ত্বেও ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। তার কর্মএলাকা ঢাকা বিভাগের মাত্র ৭টি জেলা হলেও তিনি প্রকল্পের বাইরে গিয়ে সারাদেশে প্রভাব বিস্তার করছেন। এতে প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ।
মন্ত্রণালয় কি বলছে?
এর আগেই ৩ কোটি টাকা উৎকোচের অভিযোগে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে ডা. রহিমকে শোকজ করা হয়েছে। নতুন এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “সব অভিযোগ আমলে নিয়ে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংশ্লিষ্টদের দাবি
ভুক্তভোগী কর্মকর্তা ও ঠিকাদাররা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ডা. রহিমকে প্রকল্পের দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রমাণ নষ্ট করতে পারেন।
সূত্র দৈনিক মর্নিং ভয়েস