
বিশেষ প্রতিনিধি:
সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা ১০৩টি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে দীর্ঘ ১২ থেকে ১৬ বছর ধরে কর্মরত ৭৪৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি স্থায়ীকরণ (নিয়মিতকরণ) এবং ৯মে পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন পুনর্নির্ধারণের (Pay fixation) দাবি জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ ডিজএ্যাবিলিটি অ্যাফেয়ার্স অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (বিডিএওএ)।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং সচিব—উভয় মহোদয় বরাবর পৃথক আবেদন ও স্মারকলিপি প্রদান করে এই যৌক্তিক দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে জানানো হয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত এসব কেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ‘জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন আইন, ২০২৩’-এর ২২(২)(ঘ) ধারা অনুযায়ী, নতুন বিধিমালা না হওয়া পর্যন্ত তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফাউন্ডেশনের জনবল হিসেবে গণ্য হবেন এবং পূর্বের নিয়োগকালীন জ্যেষ্ঠতা, বেতন, ভাতা ও চাকরির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
আবেদনে উল্লিখিত তথ্যানুযায়ী, ২৫ মে ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত ৯৩তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্তক্রমে গঠিত ৫ সদস্যের বাছাই কমিটি কর্মচারীদের নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে স্বপদে বহাল রেখে চাকরি স্থায়ীকরণের সুপারিশ করে। পরবর্তীতে ৯৪তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত ও প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কর্মচারীদের যোগদানপত্রও গৃহীত হয়।
তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক নতুন পদ সৃজনের শর্ত আরোপ করায় দীর্ঘদিনের এই স্থায়ীকরণ প্রক্রিয়া ঝুলে গেছে। অন্যদিকে, ফাউন্ডেশনেরই ২৪ জন কর্মকর্তার ক্ষেত্রে পদ সৃজন ছাড়াই বোর্ড কর্তৃক সরাসরি চাকরি স্থায়ী করা হয়েছে। একই আইনের অধীনে কর্মরত কর্মীদের মধ্যে এমন দ্বিমুখী নীতির কারণে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত ৭৪৩ জন কর্মী দীর্ঘদিনের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং তাদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও কর্মস্পৃহা হ্রাসের সৃষ্টি হচ্ছে।
এ অবস্থায়, সরকারি বিধি মেনে চাকরিতে প্রথম যোগদানের তারিখ বিবেচনা করে ১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত অর্জিত ইনক্রিমেন্ট যুক্তকরণসহ ৯মে পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন পুনর্নির্ধারণ এবং আসন্ন ৯৫তম বোর্ড সভার মাধ্যমে চাকরি চূড়ান্ত স্থায়ীকরণের জন্য মন্ত্রী ও সচিব মহোদয়ের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সংগঠনটি।