
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। অকালেই আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী মোছা. স্বপ্না। দীর্ঘ দিন ধরে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সেবায় আত্মনিয়োগ করা এই কর্মচারীর আকস্মিক প্রয়াণে সহকর্মীদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তবে তাঁর এই বিদায় একই সাথে রেখে গেছে এক কঠিন বাস্তবতা ও বিষাদময় প্রশ্ন—এত বছর বিশ্বস্ততার সাথে সেবা দেওয়ার পরও কর্মীদের ভবিষ্যৎ কি শুধুই একটি শোকবার্তা আর কিছু টাকার সাহায্যেই সীমাবদ্ধ?
বছরের পর বছর ধরে দেশের প্রতিবন্ধী মানুষের সেবায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করছেন ৭৪৪ জন কর্মচারী। জীবনের সেরা ১০-১৫টি বছর কেন্দ্রগুলোর পেছনে ব্যয় করার পরও মেলেনি চাকরি স্থায়ীকরণের নিশ্চয়তা। মোছা. স্বপ্নার এই প্রয়াণ কর্মীদের বুকের ভেতরের পুঞ্জীভূত কান্না ও ক্ষোভকে নতুন করে ভাসিয়ে দিয়েছে।
কর্মচারীদের আকুল প্রশ্ন, দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ প্রাপ্তি কি শুধুই সহকর্মীদের থেকে তোলা কিছু টাকা আর একটি আনুষ্ঠানিক সমবেদনা? একজন কর্মচারী চলে গেলে তাঁর পেছনে থেকে যাওয়া পরিবার, সন্তান ও তাদের পড়াশোনার স্থায়ী কোনো নিশ্চয়তা কেন থাকবে না? যে কর্মচারীরা প্রতিদিন হাজারো শারীরিক ও মানসিকভাবে অসমর্থ মানুষকে জীবনের আলো দেখান, তাঁদের নিজেদের পরিবারই আজ অন্ধকার ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
আজ স্বপ্না নেই, কাল হয়তো অন্য কেউ থাকবেন না। কিন্তু এভাবে একে একে সবার বিদায়ের পরও কি ৭৪৪ জন কর্মচারীর স্থায়ী চাকরির প্রত্যাশা কোনো আলোর মুখ দেখবে না?
মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার খাতিরে এই ৭৪৪ জন কর্মচারীর চাকরির স্থায়ীকরণ এখন সময়ের চরম দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁদের ব্যাকুল মিনতি—দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, নিষ্ঠা এবং মানবিক দিকের কথা বিবেচনা করে অবিলম্বে তাঁদের চাকরি স্থায়ীকরণের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক। জীবন থাকতে কি তারা এই শ্রম ও সেবার প্রতিদান দেখে যেতে পারবেন না?