
নিজস্ব প্রতিবেদক :
“আমরা করুণা বা দয়া চাই না, আমরা আমাদের অধিকার চাই। সামান্য কিছু টাকার ভাতা দিয়ে আমাদের ঘরে বসিয়ে না রেখে, আমাদের উপযুক্ত শিক্ষা এবং যোগ্যতানুযায়ী কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেওয়া হোক।”
সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন ফোরামে এমনটাই দাবি জানাচ্ছেন দেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাদের অধিকার সুরক্ষায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা। তাদের স্পষ্ট বার্তা— প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা ভাতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে চান না; বরং তারা আত্মনির্ভরশীল হয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে চান।
বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য যে ভাতার ব্যবস্থা রয়েছে, তা জীবনযাত্রার বর্তমান ব্যয়ের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, শুধু ভাতা দিয়ে একটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব নয়। এর স্থায়ী সমাধান লুকিয়ে আছে সুশিক্ষা এবং উপযুক্ত কর্মসংস্থানের মাঝে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মূল দাবিগুলো:
একীভুত শিক্ষার সুযোগ: সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উপযোগী পরিবেশ (যেমন- র্যাম্প, ব্রেইল পাঠ্যপুস্তক, ও সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ শিক্ষক) নিশ্চিত করা।
কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ: আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আইটি, হস্তশিল্প ও অন্যান্য কারিগরি বিষয়ে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
কোটা ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা: সরকারি ও বেসরকারি চাকুরিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত কোটা শতভাগ বাস্তবায়ন করা এবং তাদের জন্য বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ তৈরি করা।
উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা: যারা নিজে ব্যবসা বা উদ্যোগ নিতে চান, তাদের জন্য সহজ শর্তে ও বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা।
“প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের এই যৌক্তিক দাবিটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। আসুন, আমরা সবাই এই দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করি। এই বার্তাটি সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সকল নীতি-নির্ধারণী মহলে পৌঁছে দেওয়া আমাদের নাগরিক দায়িত্ব। তাদের অবহেলায় না রেখে সুযোগ দিলে, তারাও দেশের সম্পদ হয়ে উঠতে পারেন।”
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের যে লক্ষ্য, তা দেশের বিশাল এই জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে সম্ভব নয়। তাই সরকারের সকল মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অধিকার দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে— এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।