
নিজস্ব প্রতিবেদক
পিরোজপুর জেলার জরাজীর্ণ সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার ও মেরামত করে জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
বৈঠকে পিরোজপুর জেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (LGED) আওতাধীন চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, বিদ্যমান সমস্যা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন রাখতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি উল্লেখ করেন:
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও বেহাল অবস্থায় থাকা সড়কগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার করতে হবে।
পিরোজপুরের সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
কাজে কোনো ধরনের বিলম্ব বা শিথিলতা সহ্য করা হবে না।
বৈঠকে পিরোজপুর জেলার এলজিইডি প্রকল্পসমূহের বিগত সময়ের বাস্তবায়ন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নী/তির ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কয়েকটি প্রকল্পে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে আসে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।” কোনো ধরনের দুর্নী/তি বরদাশত করা হবে না বলে তিনি কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দেন।
গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন:
মীর শাহে আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী।আহম্মদ সোহেল মনজুর, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী (সংসদ সদস্য, পিরোজপুর-২)।
মাসুদ সাঈদী, সংসদ সদস্য, পিরোজপুর-১।
রুহুল আমিন দুলাল, সংসদ সদস্য, পিরোজপুর-৩।
শহীদুল হাসান, সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ।
বৈঠক শেষে পিরোজপুরের সড়ক নেটওয়ার্ক পুনর্গঠনে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি হস্তক্ষেপের ফলে জেলাটিতে ঝুলে থাকা উন্নয়ন কাজগুলো দ্রুত গতি পাবে।