
ধুপছায়া ডেস্ক
দেশের প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যাপিত জীবনে এখন বড় দুশ্চিন্তার নাম ‘আর্থিক সংকট’। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নতুন কোনো বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) না হওয়ায় মুদ্রাস্ফীতির এই বাজারে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারি এই বিশাল জনবল এখন নতুন পে-স্কেলের আশায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার ১১ বছর।
সর্বশেষ ২০১৫ সালে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নতুন পে-স্কেল আসার কথা থাকলেও ২০২০ এবং ২০২৫ সালে তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে এক দশক আগের বেতন দিয়ে বর্তমানের আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্যের বাজারে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির তথ্যমতে, চরম অর্থকষ্টে দিন কাটছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের। সমিতির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আব্দুল মালেক এই সংকটের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন:
”দেশের প্রায় ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ সরকারি কর্মচারী বর্তমানে ঋণগ্রস্ত। মাসের অর্ধেক পার হতে না হতেই তাদের ধারদেনা করতে হচ্ছে। মাস শেষে ঋণের বোঝা আরও ভারী হচ্ছে, যা জীবনযাত্রার মানকে তলানিতে নামিয়ে দিয়েছে।”
দীর্ঘদিন নতুন স্কেল না হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন অবসরে যাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের অভিযোগ:২০১৫ এর পর স্কেল না হওয়ায়: যারা গত কয়েক বছরে অবসরে গেছেন, তারা বর্ধিত গ্র্যাচুইটি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
আসন্ন বাজেট নিয়ে উৎকণ্ঠা: আগামী জুনের বাজেটে যদি নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ বা প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা না হয়, তবে বর্তমানে যারা অবসরের অপেক্ষায় আছেন, তারাও বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা হারাবেন।
সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ২২ লাখ পরিবার
কর্মচারী নেতাদের মতে, এই সংকট নিরসনে এখন একটি ‘রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত’ জরুরি। ১১ বছরের এই স্থবিরতা কাটাতে এবং সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপই এখন একমাত্র ভরসা। আসন্ন বাজেটে সুখবরের প্রত্যাশায় বুক বাঁধছেন দেশের ২২ লাখ সরকারি প্রাণ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের গতিশীলতা বজায় রাখতে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবল চাঙ্গা করতে দ্রুত নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা সময়ের দাবি।