
গত কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে ঢাকার বিভিন্ন নিচু এলাকার বস্তিগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
বিশেষ করে কড়াইল বস্তি, মিরপুরের বাগানবাড়ি,জাহাঙ্গীরের বস্তি, দুয়ারীপাড়া বস্তি, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের কিছু অংশ এবং সায়েদাবাদ ও খিলগাঁও এলাকার বেশ কয়েকটি বস্তিতে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে গেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতি ঘরবাড়িতে পানি: বস্তিগুলোর অধিকাংশ কাঁচা ও আধাপাকা ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। বিছানা, আসবাবপত্র এবং রান্নার সামগ্রী পানিতে ভেসে যাওয়ায় মানুষ চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বর্তমানে খাদ্য ও পানির সংকট: রান্নার জায়গা তলিয়ে যাওয়ায় তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। সেই সাথে বিশুদ্ধ খাওয়ার পানির উৎস (নলকূপ ও সাপ্লাইয়ের পানির লাইন) নোংরা পানিতে ডুবে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র অভাব।
স্বাস্থ্যঝুঁকি:ড্রেনের ময়লা ও বর্জ্য মিশ্রিত দূষিত পানি বস্তির ভেতরে ছড়িয়ে পড়ায় ডায়রিয়া, চর্মরোগ এবং ডেঙ্গুর মতো পানিবাহিত ও মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি চরম মাত্রায় বেড়েছে।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য
কড়াইল বস্তির বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন:
“রাইতের বেলা হঠাৎ ঘরে পানি ঢোকা শুরু করছে। পোলাপান লইয়া খাটের ওপর বইসা রাত পার করছি। রান্ধনের (রান্নার) কোনো উপায় নাই, শুকনা খাবার খাইয়া আছি।”
মিরপুরের এক দিনমজুর জনাব রাজিব ভাই জানান, ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় তারা কাজেও বের হতে পারছেন না, আবার ঘরে থাকারও কোনো পরিবেশ নেই। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে খাটের ওপর মাচা বানিয়ে বা খাটের চার পায়ার নিচে ইট দিয়ে উঁচু করে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জরুরি ভিত্তিতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য সিটি কর্পোরেশনের কার্যকর ভূমিকার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, আগামী আরও দু-একদিন এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা বস্তিবাসী মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।