
নিজস্ব প্রতিবেদক
কর্মক্ষেত্র এবং শিক্ষাঙ্গনে নারীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সব ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানি রুখতে একটি যুগান্তকারী আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। ২০০৮ সালে মহামান্য হাইকোর্টের দেওয়া ঐতিহাসিক নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি ‘কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌ/ন হয়রানি প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর খসড়াটি বর্তমানে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রস্তাবিত এই নতুন আইনে প্রচলিত অপরাধের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যম তথা সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারকেও কঠোরভাবে আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।
আইনের মূল বৈচিত্র্য ও উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ:
ডিজিটাল হয়রানির শাস্তি: ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, বা ইমেইলের মতো যেকোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আপত্তিকর বা অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণকে এই আইনে যৌ/ন হয়রানি হিসেবে গণ্য করা হবে।
প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে একটি করে সুনির্দিষ্ট ‘অভিযোগ কমিটি’ থাকবে, যার প্রধান হবেন একজন নারী। যেকোনো অভিযোগ পাওয়ার সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তদন্ত চলাকালে ভুক্তভোগী ও অভিযোগের বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে এবং অভিযোগকারীকে দেওয়া হবে আইনি ও মানসিক সুরক্ষা। শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য থাকছে বিশেষ আইনি সুবিধা।
আইনের অপব্যবহার রোধে এবং কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেও শা/স্তির বিধান রাখা হয়েছে।২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে এই আইনের খসড়াটি নীতিগত অনুমোদন পেয়েছিল। পরবর্তীতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর খসড়াটি আরও নিখুঁত করতে এবং আইনি ভাষা সুনির্দিষ্ট করতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই আইনের খসড়াটি খুব শীঘ্রই সর্বসাধারণের মতামত ও সংশোধনের জন্য ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করা হবে। নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক দলগুলোর যৌক্তিক মতামত বিবেচনা করে দ্রুতই এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পেশ করা হবে।