
রাসেল মিয়া, ঢাকা প্রতিনিধি : স্বাধীনতা মানে কেবল রাজনৈতিক মুক্তি নয়, বরং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও শ্রমের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। আজ শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি।
স্বাধীনতার সংজ্ঞায় অর্থনৈতিক মুক্তি: চিফ হুইপ তার বক্তব্যে বলেন, “স্বাধীনতা মানে একজন কৃষকের নির্বিঘ্নে চাষাবাদের অধিকার এবং একজন রিকশাচালকের সম্মানজনক জীবিকা নির্বাহের নিশ্চয়তা। জনগণের ঘাম ও শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন যখন নিশ্চিত হবে, তখনই প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের পর দেশের মানুষ এখন স্বাধীনতার সুফল পেতে শুরু করেছে।
অতীতের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে দেশ চরম অরাজকতা ও দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছিল। আইন-শৃঙ্খলার অবনতি এবং মানবিক বিপর্যয়ের সেই কঠিন সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জনগণের আহ্বানে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার দূরদর্শী ‘খাল খনন’ কর্মসূচির ফলে মাত্র তিন বছরে দেশ খাদ্য সংকট কাটিয়ে ওঠে এবং সেনেগালে খাদ্য রপ্তানি শুরু করে। তিনি জিয়াউর রহমানকে এমন এক অনন্য সামরিক শাসক হিসেবে অভিহিত করেন, যিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করেছিলেন।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নূরুল ইসলাম মণি স্পষ্ট করে বলেন, ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে কোনো ধরনের অপরাজনীতি সহ্য করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান এই সনদ বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ। আইনি প্রক্রিয়া ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়েই এই সনদের প্রতিটি বিষয় কার্যকর করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে চিফ হুইপ বলেন, জনাব তারেক রহমান ক্ষমতার মোহ নয়, বরং জনগণের সেবায় নিয়োজিত। তিনি একজন মিতব্যয়ী মানুষ এবং সাধারণ মানুষের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে, ‘দুবারের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না’—এমন প্রস্তাব দিয়ে তিনি তৃতীয় বিশ্বে ক্ষমতার পালাবদলের এক নজিরবিহীন উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।
বিগত সরকারের সমালোচনা: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ব্যাপক অর্থ পাচারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশ থেকে প্রায় ২৭ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। ১৭ বছর ধরে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর যে অত্যাচার চালানো হয়েছে, তার মূল কারণ ছিল দেশের উন্নতি ও গণতন্ত্রের প্রতি তাদের অটল বিশ্বাস।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব অধ্যক্ষ সুকুমার বড়ুয়া। সভায় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।