
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান-২ নম্বরে অবস্থিত সাবেক সংসদ সদস্য ও তারকা ফুটবলার আবদুস সালাম মুর্শেদীর দখলে থাকা বহুল আলোচিত বাড়িটি সরকারের সম্পত্তি বলে চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আগামী তিন মাসের মধ্যে বাড়িটি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার এবং বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
আদালত তার রায়ে স্পষ্ট করে বলেন, গুলশানের সিইএন (ডি)-২৭ নম্বর বাড়িটি মূলত একটি ‘পরিত্যক্ত সম্পত্তি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল। আইনগত কোনো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটিকে তালিকা থেকে অবমুক্ত করা হয়নি। ফলে আইনি অবমুক্তকরণ ছাড়া পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই সম্পত্তি হস্তান্তরের যে প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে, তার কোনো আইনি বৈধতা নেই।
”পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত বাড়িটির মালিকানা পরিবর্তনের যত উদ্যোগই নেওয়া হয়ে থাকুক না কেন, তা সম্পত্তির মূল আইনি অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেনি। সুতরাং, এই বাড়িটি সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বলেই গণ্য হবে।”
মামলার প্রেক্ষাপট ও দুদকের তদন্ত
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই বাড়িটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ১৯৯৭ সাল থেকে বাড়িটি আবদুস সালাম মুর্শেদীর ভোগদখলে ছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ভু/য়া দলিল ও নামজারির মাধ্যমে এর ব্যক্তিগত মালিকানা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালানো হয়।
২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক (ব্যারিস্টার সুমন) এই অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত দু/র্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) বিষয়টি অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন। দুদক তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে মালিকানা হস্তান্তরের বিভিন্ন ধাপে ব্যাপক অসংগতি ও জালিয়াতির প্রমাণ পায়।
আদালত গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে আগামী তিন মাসের মধ্যে বাড়িটির দখল বুঝে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দখল নেওয়ার পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিবকে আদালতে এই সংক্রান্ত একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
পাশাপাশি, এই সম্পত্তি হস্তান্তরের পেছনে থাকা জালিয়াতি ও অনিয়মের বিষয়ে দুদকের চলমান তদন্ত অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই জা/লিয়াতির সাথে কোনো ব্যক্তি বা সরকারি কর্মকর্তা জড়িত থাকলে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও আদেশ দেন আদালত।