
যশোর প্রতিনিধি: রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে গণভোট ও জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং বিশৃ/ঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে—এমন ব্যক্তিদের প্রশ্রয় না দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহাসিক উলসী খালের পাড়ে পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।
বিশৃঙ্খ/লাকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যারা গণভোটের রায়কে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে জুলাই সনদকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে, তাদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।” তিনি হুঁশি/য়ারি দিয়ে বলেন, যারা বিশৃ/ঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তারা সফল হলে নারীর জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, খাল খনন, বন্ধ মিল কারখানা চালু এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার মতো জনকল্যাণমুখী কর্মসূচিগুলো ব্যাহত হবে।
৫ আগস্টের গণ/অভ্যু/ত্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জনগণ ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে—তারা তাদের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করার চেষ্টা মেনে নেয় না। যেভাবে জনগণ ৫ আগস্ট উপযুক্ত জবাব দিয়েছে, ভবিষ্যতেও কেউ তাদের ভাগ্য নিয়ে খেলতে চাইলে তারা একইভাবে জবাব দেবে।”
প্রায় ৫০ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বেচ্ছাশ্রমে খনন করা উলসী খালটি পুনরায় খননের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খনন সম্পন্ন হলে প্রায় ২০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং ১৪শ’ টন বাড়তি খাদ্যশস্য উৎপাদন সম্ভব হবে। এছাড়া খালের দুপাশে ৩ হাজার বৃক্ষরোপণ এবং স্থানীয় নারীদের হাঁস পালনের মাধ্যমে বাড়তি উপার্জনের সুযোগ সৃষ্টির কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির উদাহরণ টেনে তারেক রহমান বলেন, “সিঙ্গাপুরের অবস্থা ১৯৭১ সালে আমাদের চেয়েও খারাপ ছিল। আজ ৫০ বছরে তারা কোথায় চলে গিয়েছে! তারা যদি পারে, তবে আমরা কেন পারবো না? ইনশাআল্লাহ আমরাও পারবো।”
নারীর শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে বিশেষ অগ্রাধিকার
নারীদের ক্ষমতায়নে নিজের দলের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, বর্তমান সরকার মেয়েদের শিক্ষার হার বাড়াতে ডিগ্রিপর্যায় পর্যন্ত পড়াশোনা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি ভালো ফলাফলকারী ছাত্রীদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও রাখা হবে।
সোমবার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে কোদাল চালিয়ে এই ঐতিহাসিক খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। এর আগে তিনি খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ এবং বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।