
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন দ্বারা পরিচালিত প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের (লালবাগ) থেরাপি সহকারী এম কে পারভেজের বিরুদ্ধে সুক্ষ্ম পরিকল্পনার মাধ্যমে সহকর্মীদের কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত পারভেজ ‘জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র কর্মকর্তা-কর্মচারী সোসাইটি’র পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক এবং থেরাপি সহকারী গ্রুপের সভাপতি পরিচয় দিয়ে এই বিপুল অঙ্কের টাকা আত্ম/সাৎ করেছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
অভিযোগে প্রকাশ, পারভেজ নিজেকে সংগঠনের শীর্ষ নেতা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রের কর্মচারীদের সুবিধাজনক স্থানে বদলি করে দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন। বদলি বাণিজ্যের নামে তিনি অনেকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে নানাবিধ অজুহাতে ফোন করে সুকৌশলে বিপুল পরিমাণ টাকা ধার নিয়ে আর ফেরত দেননি।
ভুক্তভোগী মোঃ শফিকুল ইসলাম শান্ত জানান, প্রায় তিন বছর আগে পারভেজ তাকে ফোন করে বলেন, “শান্ত ভাই, আমি বড় বিপদের মধ্যে আছি। ব্যাংক বন্ধ থাকায় টাকা তুলতে পারছি না। আমাকে কিছু টাকা বিকাশ করে দিন, ব্যাংক খুললেই প্রথম আওয়ারে টাকা ফেরত দিয়ে দেব।” তার কথায় বিশ্বাস করে সরল মনে ১৫ হাজার টাকা বিকাশ করেন শান্ত। কিন্তু এরপর থেকে পারভেজ সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং বর্তমানে ফোন করলেও তা রিসিভ করেন না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু শফিকুল ইসলামই নন, একই কায়দায় প্রতিষ্ঠানের প্রায় শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছ থেকে ২০ হাজার, ৫০ হাজার ও ১ লক্ষ টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন এই কথিত নেতা। ভুক্তভোগীদের অনেকেই এখন তাকে ‘আন্তর্জাতিক মানের প্রতারক’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।
এই বিষয়ে জানতে সোসাইটির সভাপতি ড. মোঃ রেজাউল কবিরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মোঃ আনিসুজ্জামান জানান, “এ ধরনের অভিযোগ পূর্বে আমাদের কাছে কেউ করেনি। আপনার (সাংবাদিক) মাধ্যমেই প্রথম জানতে পারলাম। সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে বা বদলি বাণিজ্যের নামে কেউ যদি টাকা গ্রহণ করে থাকে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরু/দ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মূল অভিযুক্ত এম কে পারভেজের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি মোবাইল ধরেন নি।
ভুক্তভোগী কর্মচারীরা এই আন্তর্জাতিক মানের প্রতারকের হাত থেকে তাদের কষ্টার্জিত টাকা উদ্ধার এবং তার দৃষ্টা/ন্ত/মূলক শা/স্তির দাবিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
(প্রতারক এম কে পারভেজের জালি/য়াতির চিত্র নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ প্রথম পর্ব। আগামী পর্বে থাকছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য…)