
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদের ১৩তম অধিবেশনে এক নজিরবিহীন মুহূর্তের সাক্ষী হলো দেশ। তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি এবং সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের একটি মাত্র বাক্য বর্তমানে টক অব দ্য নেশন: “আমরা র/ক্ত ঝরিয়েছি বলেই আজ আপনারা প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন।” দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দেওয়া এই বক্তব্যটি সংসদের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
৭২-এর সংবিধান ও জেন-জি’র ভাবনা
নিজের বক্তব্যে মাসউদ স্পষ্ট করে দেন যে, বর্তমান ‘জেন-জি’ বা নতুন প্রজন্ম আর ১৯৭২ সালের সংবিধানের কাঠামোতে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। তিনি উল্লেখ করেন:
বর্তমান প্রজন্মের চাহিদা ও বাস্তবতা ভিন্ন।
তারা পুরোনো ধ্যান-ধারণার পরিবর্তে আধুনিক ও বাস্তবমুখী সংস্কার চায়।
নিজেকে এই প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করে তিনি একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের দাবি জানান।
আব্দুল হান্নান মাসউদের এই বক্তব্যের পরই বড় একটি বিতর্ক সামনে এসেছে—সংসদে বক্তৃতার সময়সীমা নিয়ে। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাকে মাত্র ৬ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল।
এই স্বল্প সময় নিয়ে জনমনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে:
দেশের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী জায়গায় একজন প্রতিনিধি কি মাত্র ৬ মিনিটে তার পুরো দর্শন তুলে ধরতে পারেন?
নতুন প্রজন্মের এই বলিষ্ঠ কণ্ঠগুলোকে কি ইচ্ছাকৃতভাবে সময়সীমার বেড়াজালে আটকে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে?
সংসদীয় সংস্কৃতি কি এখনো পরিবর্তনের জোয়ার গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয়?
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশ ও প্রজন্মের চিন্তাভাবনায় যে আমূল পরিবর্তন এসেছে, মাসউদের বক্তব্য তারই প্রতিফলন। রাষ্ট্র সংস্কারের যে দাবি রাজপথ থেকে সংসদে পৌঁছেছে, তাকে কেবল সময়ের ফ্রেমে বেঁধে রাখা সম্ভব নয়।
”প্রজন্ম বদলাচ্ছে, বদলাচ্ছে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্র। এখন সময় এসেছে নতুন চিন্তা ও তারুণ্যের শক্তিকে পূর্ণাঙ্গ জায়গা করে দেওয়ার।”
নতুন প্রজন্মের এই প্রতিনিধিরা কি পারবেন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলায়তন ভাঙতে? নাকি সংসদীয় নিয়মের বেড়াজালে তাদের এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি হারিয়ে যাবে।