
ধুপছায়া ডেক্স
জনগণের দুর্ভোগ লাঘব ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে জ্বালানি খাতে বিশাল অঙ্কের ভর্তুকি অব্যাহত রেখেছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখা হচ্ছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে যশোরে দুঃস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশ জ্বালানির দাম বাড়ালেও বাংলাদেশ সরকার জনগণের কথা চিন্তা করে দাম অপরিবর্তিত রেখেছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সরাসরি বিদ্যুৎ, গণপরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে এর প্রভাব পড়ে। সেই চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতেই সরকার ভর্তুকির পথ বেছে নিয়েছে।”
তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে জ্বালানির চাহিদা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। আগে যেখানে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা ছিল প্রায় ১২ হাজার টন, তা বর্তমানে বিশেষ করে ঈদের আগে বেড়ে ২৪ থেকে ২৫ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদাও সমহারে বাড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, গত ১৫ বছরে প্রকৃত উপকারভোগীরা অনেকাংশে বঞ্চিত হলেও বর্তমান সরকার স্বচ্ছতার সাথে কাজ করছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এরই মধ্যে:
ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম চালু হয়েছে।
ধর্মগুরুদের সম্মানী ভাতা প্রদান শুরু হয়েছে।
আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী ১৫৩ জন দুঃস্থ ও অসহায় ব্যক্তির হাতে এককালীন আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন।
যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুজন সরকার এবং যশোর প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুনসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।