
নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। কর্মরত ‘টেকনিশিয়ান-১’ ও ‘টেকনিশিয়ান-২’ পদ নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। দাপ্তরিক পর্যায়ে অনেকের ধারণা, এই পদধারীদের কাজের পরিধি সীমিত বা তাদের প্রয়োজনীয়তা কম। অথচ বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। নিয়মিত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসব কর্মীরাই মাঠ পর্যায়ে কান ও চক্ষু রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে জনবলের অভাবে তারা থেরাপি সহকারী, অফিস সহকারী কিংবা রিসিপশনিস্টের দায়িত্বও দক্ষতার সাথে পালন করছেন।যেহেতু এই পদগুলোতে নিয়োগের সময় ডিপ্লোমা ডিগ্রি বাধ্যতামূলক ছিল না, তাই অধিকাংশ কর্মীই শুরুতে অনভিজ্ঞ অবস্থায় কর্মজীবন শুরু করেন। চোখ ও কান মানবদেহের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল অঙ্গ হওয়ায়, যথাযথ অভিজ্ঞতা ও অনুশীলন ছাড়া এখানে কাজ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণেই অনেক সময় সঠিক গাইডলাইনের অভাবে কর্মীরা দাপ্তরিক সমালোচনার মুখে পড়েন।
প্রশিক্ষণই হতে পারে সমাধানের পথ:
অভিজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত ও সুপরিকল্পিত কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই টেকনিশিয়ানদের দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তোলা সম্ভব। তাদের হাতে কলমে কাজের সুযোগ দিলে এবং সঠিক তত্ত্বাবধানে রাখলে তারা মাঠ পর্যায়ে প্রাথমিক চক্ষু ও কর্ণ রোগের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। এতে সেবা কেন্দ্রে আগত অস্বচ্ছল ও অসহায় রোগীরা হাতের কাছেই প্রাথমিক পরামর্শ ও চিকিৎসা সেবা পাবেন, যা দেশের স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান:
সেবা কেন্দ্রে একটি ইতিবাচক ও উৎপাদনশীল কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং রোগীদের মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে টেকনিশিয়ান-১ ও টেকনিশিয়ান-২ পদধারীদের জন্য নিয়মিত বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সুদৃষ্টি দেবেন—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী কর্মী ও সেবা গ্রহীতারা।