
নিজস্ব প্রতিবেদক-ধুপছায়া
শারীরিক সীমাবদ্ধতা যে উদ্ভাবনী শক্তির পথে বাধা হতে পারে না, তা প্রমাণ করলেন অদম্য এক তরুণ ওয়াকিমুল ইসলাম। দেশীয় প্রযুক্তিতে তার তৈরি ‘স্মার্ট কারে’ চড়ে তাকে উৎসাহ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৯ মে) সকালে তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই অভূতপূর্ব মুহূর্তের অবতারণা হয়।
যশোরের চৌগাছা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ওয়াকিমুল ইসলাম নিজের চলাচলের পথ সহজ করতে তৈরি করেছেন ব্যাটারিচালিত বিশেষ এই যান, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘এ টু আই স্মার্ট কার’। প্রধানমন্ত্রী শুধু গাড়িটি পরিদর্শনই করেননি, বরং ওয়াকিমুলের পাশে বসে গাড়িতে চড়ে তার এই সৃজনশীলতার প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন উদ্ভাবন আমাদের তরুণ প্রজন্মের সক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ।” তিনি এই উদ্যোগকে আরও আধুনিক ও সাশ্রয়ী করার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেস) সহায়তায় সামনে আসা এই যানটির বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য দিক রয়েছে:
গতিবেগ: এটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৫ কিলোমিটার বেগে চলতে সক্ষম।
ব্যাটারি ব্যাকআপ: একবার পূর্ণ চার্জে গাড়িটি ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে পারে।
উপযোগিতা: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়াও বয়স্ক ব্যক্তিদের যাতায়াতে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
সীমাবদ্ধতাকে জয়ের অনুপ্রেরণা
সাক্ষাৎকালে ওয়াকিমুল প্রধানমন্ত্রীকে জানান, বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র হিসেবে ঘরবন্দী জীবন কাটানোর সময় বাইরে স্বাধীনভাবে চলাচলের প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই গাড়ি তৈরির চিন্তা তার মাথায় আসে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বাবার সন্তান ওয়াকিমুল জানান, সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তিনি আরও উন্নতমানের পরিবেশবান্ধব স্মার্ট কার তৈরি করতে সক্ষম।
এই বিশেষ সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
ওয়াকিমুলের এই উদ্ভাবন দেশের তরুণ বিজ্ঞানীদের জন্য এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা প্রমাণ করে ইচ্ছা থাকলে সীমিত সম্পদেও বিশ্বমানের উদ্ভাবন সম্ভব।