
ধুপছায়া
দীর্ঘ বিরতির পর দেশে আবারও শুরু হতে যাচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তোড়জোড়। সব ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবর মাসেই প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই ভোটপ্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে ও বিরতিহীনভাবে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে কমিশন।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনকে অতীতের চেয়ে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর করতে আইনি কাঠামো এবং আচরণবিধিতে বড় ধরনের সংস্কার আনা হচ্ছে। আগামী জুনের মধ্যেই এই সংস্কার প্রক্রিয়া শেষ করে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে নতুন আইনি কাঠামো ঘোষণা করা হবে। এরপরই দ্রুত ঘোষণা করা হতে পারে নির্বাচনের তফসিল।
আসন্ন নির্বাচনগুলোতে কিছু বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তি না থাকলে এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া সম্পূর্ণ নির্দলীয় কাঠামোয় করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে ভাবা হচ্ছে। এছাড়া নির্বাচন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, প্রচারণার পদ্ধতি এবং প্রার্থিতা সংক্রান্ত বিধানেও বেশ কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রশাসনিক শূন্যতা এড়াতে এই নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের স্বপদে বহাল রেখেই নির্বাচন করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। তবে তারা যেন নির্বাচনে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন, সেজন্য অত্যন্ত কঠোর একটি আচরণবিধি তৈরি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান,
”আইন অনুযায়ী ‘অফিস অব প্রফিট’ বা লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তিরা নির্বাচন করতে পারেন না। সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা সরকারি বেতন ও কী কী সুবিধা ভোগ করছেন, তা বিস্তারিত আইনি পর্যালোচনা করে দেখা হবে। যদি তারা সরকারি সুবিধা নেন, তবে অংশ নিতে পারবেন না। তবে আইনের স্বাভাবিক গতিতে তারা অংশ নিতে পারবেন বলে আমার ধারণা। চেয়ার খালি রাখা যাবে না বলেই তাদের পদে রেখে কঠোর আচরণবিধির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার রোধ করা হবে।”
প্রথম ধাপে কেন ইউনিয়ন পরিষদ?
নির্বাচন কমিশনার আরও জানান, বাজেট, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও মৌসুমি বাস্তবতা বিবেচনা করে এবার তৃণমূলের নির্বাচনকে আগে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। বিপুলসংখ্যক মানুষের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততার কারণে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনটিই আগে করা প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিশন। ইউপি নির্বাচনের পর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিন এবং পৌরসভার ক্ষেত্রে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও গতকাল জানিয়েছেন, সরকারের বাজেট ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির ওপর ভিত্তি করে আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকেই ধাপে ধাপে এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।