
ঝিকরগাছা (যশোর):প্রতিনিধি
যশোরের ঝিকরগাছায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য সেদ্ধ ডিম দেওয়ার কথা থাকলেও সরবরাহ করা হয়েছে কাঁচা ডিম। গত বুধবার (৬ মে) উপজেলার কায়েমকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ঝিকরগাছা উপজেলার ১৩১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীদের পুষ্টির জন্য সেদ্ধ ডিম ও বানরুটি দেওয়ার নিয়ম। তবে কায়েমকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিম সরবরাহের সময় দেখা যায় সেগুলো কাঁচা। স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাফিজুর রহমান তাৎক্ষণিকভাবে এই নিম্নমানের খাবার গ্রহণ না করে ফেরত পাঠিয়ে দেন। ফলে সেদিন শিক্ষার্থীরা কেবল বানরুটি খেয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান, “প্রতিদিন একেকজন এসে খাবার দিয়ে যায়, কিন্তু কারা পাঠাচ্ছে বা কোথা থেকে আসছে তা আমাদের পরিষ্কার নয়। নিয়ম অনুযায়ী সেদ্ধ ডিম দেওয়ার কথা থাকলেও কাঁচা ডিম পাঠানোয় আমি তা গ্রহণ করিনি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, কেবল ডিম নয়, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্রায়ই পাকা কলার বদলে কাঁচা কলা দেয় এবং নির্ধারিত সময়ে খাবার পৌঁছে দেয় না। জানা গেছে, ‘সুশীলন’ নামের একটি এনজিও এই খাবার সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে। এ বিষয়ে এনজিওটির এরিয়া ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম স্বীকার করেন যে, নতুন কাজ শুরু করায় কিছু জায়গায় সমন্বয়হীনতা ও সমস্যা হচ্ছে, যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওয়ালিউর রহমান জানান, প্রতিটি স্কুলে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন কাঁচা কলা বা কাঁচা ডিম গ্রহণ করা না হয়। কায়েমকোলা স্কুলের ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাফফাত আরা সাঈদ জানান, আগামী উপজেলা পরিষদ মিটিংয়ে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।