
মোঃ মুহিববুল্লাহ আল মামুন, স্টাফ রিপোর্টার : মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু কর্মকর্তার চরম অবহেলা ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বছরের পর বছর ঝুলে রয়েছে নামের বানান, জন্ম তারিখ ও ব্যাংক হিসাব নম্বর সংশোধনের আবেদন। এতে খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসার অসংখ্য শিক্ষক-কর্মচারী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেকেই বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, এমনকি অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রেও প্রাপ্য সুবিধা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার সামন্তসেনা দারুসসুন্নাত সিদ্দিকিয়া আলিম মাদ্রাসার চিত্রই এর জ্বলন্ত উদাহরণ। প্রতিষ্ঠানটির ১৮ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে অন্তত ৬ জনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনের আবেদন বছরের পর বছর ধরে অনিষ্পন্ন রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রায় তিন দশক ধরে দৌড়ঝাঁপ, আবেদন ও তদবির করেও কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি।
জানা যায়, মাদ্রাসাটির ইবতেদায়ি শাখার জুনিয়র শিক্ষক মিজানুর রহমান ১৯৯৫ সাল থেকে তার নামের বানান ও জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য আবেদন করে আসছেন। দীর্ঘ ৩০ বছর পার হলেও সংশোধন হয়নি তার তথ্য। সর্বশেষ ২ জানুয়ারি ২০২৬ তিনি অবসরে গেলেও এখনো সংশোধন না হওয়ায় অবসরজনিত সুবিধা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
একইভাবে, ইবতেদায়ি শাখার ক্বারী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, দাখিল শাখার বিএসসি গণিত শিক্ষক মোঃ মারুফ মোড়ল, মোঃ মুহিববুল্লাহ আল মামুন ও মোহাম্মদ খলিলুর রহমানের ব্যাংক হিসাব নম্বর সংশোধনের আবেদন দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করলে বারবার “আগামী এমপিওতে ঠিক হবে” এমন আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
তারা জানান, খুলনার রূপালী ব্যাংক নতুন বাজার শাখা থেকে প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করে অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। এরপরও রহস্যজনক কারণে সংশোধন কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে না।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতির কারণে এই জটিলতা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এমনকি উৎকোচ গ্রহণের পরও কাজ সম্পন্ন না হওয়ার অভিযোগও উঠেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। ফলে অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে এবং অবসর সুবিধা পাওয়াও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এতে তাদের পরিবার-পরিজনসহ সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত সমস্যার সমাধান, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়—দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় একই ধরনের জটিলতা বিদ্যমান।
তাদের ভাষ্য, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত তদন্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।