
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা:
স্ত্রীর মর্যাদা ও সংসারের দাবিতে খুলনায় স্বামীর বাড়ির সামনে আমরণ অনশনে বসা তরুণী মলি মল্লিকের ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত সংসার জুটল না। নগদ ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে নিজের বৈবাহিক সম্পর্কের দাবি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। সোমবার (২৯ জুন) স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের উপস্থিতিতে এক শালিসী বৈঠকে এই আপস-রফা সম্পন্ন হয়।
গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাসের সাথে সনাতন ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে হয় অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মলি মল্লিকের। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পরই ডা. ইন্দ্রজিৎ ও তাঁর পরিবার মলির সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় এবং তাঁকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে অস্বীকার করে।
আমরণ অনশন: কোনো উপায় না পেয়ে গত ২৬ জুন (শুক্রবার) থেকে খুলনার জিরোপয়েন্ট হান্নান সড়ক এলাকায় শ্বশুরবাড়ির সামনে আমরণ অনশনে বসেন মলি। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে অভিযুক্ত চিকিৎসক বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
টাকায় দফারফা: অনশনের পর এলাকাবাসী মলির পাশে দাঁড়ালেও চিকিৎসকের প্রভাবশালী পরিবার স্থানীয় মাতব্বরদের মাধ্যমে বিষয়টি শালিসের দিকে নিয়ে যায়। অবশেষে সোমবার এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ডা. ইন্দ্রজিতের সাথে মলির আর কোনো বৈবাহিক সম্পর্ক থাকবে না। এর বিপরীতে মলিকে এককালীন ৩০ লাখ টাকা পরিশোধ করবে চিকিৎসকের পরিবার।
এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া: টাকার বিনিময়ে একটি সংসার এভাবে ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, ক্ষমতার জোরে একটি মেয়ের আইনি অধিকার ও স্বপ্নের নির্মম সমাপ্তি ঘটানো হলো।