
নিজস্ব প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের ফকিরহাটে স্বামীর সংসারে ফিরে পাওয়ার দাবিতে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে অনশন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বন্যা মজুমদার নামে এক ইন্টার্ন চিকিৎসক। গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে উপজেলার পুটিয়া এলাকায় স্বামী ডা. শতদল মণ্ডলের বাড়ির সামনে তিনি এই অনশন শুরু করেন।
ডা. বন্যা মজুমদারের অভিযোগ, তার স্বামী ডা. শতদল মণ্ডল এক আত্মীয়ের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। এই পর/কীয়ার বিষয়টি জানতে পারায় তাকে নানাভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। পাশাপাশি তার চরিত্র হনন করতে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এমনকি বিয়ের সময় পাওয়া স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র রেখে তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
বন্যা মজুমদার গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি কোনো ধরনের সং/ঘাত বা ঝামেলা চাই না। আলোচনার মাধ্যমে সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে চাই। নিজের ন্যায্য অধিকার ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত আমি এই অনশন ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব।”
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা অমল কুমার বিশ্বাস জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি দেখছেন। এলাকায় বন্যা মজুমদারকে নিয়ে বিভিন্ন গুঞ্জন ছড়ানো হলেও তার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। উল্টো বন্যাকে জোর করে সংসার থেকে দূরে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। দুই পরিবারের আলোচনার মাধ্যমে এর একটি শান্তিপূর্ণ ও ন্যায্য সমাধান হওয়া দরকার বলে মনে করেন এই প্রতিবেশী।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ডা. শতদল মণ্ডল বলেন, তার স্ত্রী বাড়ির সামনে অনশনে বসেছেন কি না, তা তিনি জানেন না। তবে তিনি স্ত্রীকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন এবং আইনজীবীর পরামর্শ অনুযায়ী এই মুহূর্তে গণমাধ্যমে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য কালিপদ বিশ্বাস জানান, বিয়ের পর থেকেই বন্যা মজুমদারকে নিয়ে পরিবারে নানা অভিযোগ তোলা হচ্ছিল। এই সংকট নিরসনে একাধিকবার সামাজিকভাবে সালিশ-বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সবকিছু ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করেই শতদল মণ্ডলের সঙ্গে বন্যার বিয়ে দেওয়া হয়েছিল।