
নিজস্ব প্রতিবেদক, কয়রা (খুলনা):
বাঘ ও কুমিরের ভয়কে জয় করে সুন্দরবনে জীবিকা নির্বাহ করা খুলনার কয়রা অঞ্চলের জেলে ও বাওয়ালিরা এখন নতুন করে চরম দ/স্যু আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। বনের হিং/স্র প্রাণীর ঝুঁকি উপেক্ষা করলেও নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা মজনু, বাম্বা, আসাবুর ও দয়াল বাহিনীসহ বিভিন্ন সশ/স্ত্র গ্রুপের দৌরাত্ম্যে তাদের জীবন ও জীবিকা আজ গভীর সংকটে পড়েছে।
জীবনের ঝুঁকি ও দ/স্যুদের দৌরাত্ম্য
নিম্ন উপকূলীয় জনপদ কয়রার অধিকাংশ মানুষের প্রধান জীবিকা সুন্দরবননির্ভর। মাছ, কাঁকড়া ও মধু সংগ্রহ করে কোনোমতে পরিবারের মুখে অন্ন জোগাতেন তারা। গত ১ সেপ্টেম্বর কিছু দ/স্যু দল আত্মসমর্পণ করায় সাময়িক স্বস্তি মিললেও, বর্তমানে নতুন বেশ কয়েকটি বাহিনী সুন্দরবনে ত্রাস সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ অনুযায়ী:
ধারাবাহিক চাঁ/দা আদায়: সুন্দরবনে মাছ ধরতে গেলে প্রতি গণ বা ৭ থেকে ৮ দিন পর পর জেলেদের মোটা অঙ্কের চাঁ/দা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
বহু বাহিনীর চাপ: এলাকায় এক বাহি/নীকে চাঁ/দা দিলেও অন্য বাহিনী তা মানে না। এভাবে ৮-১০টি দ/স্যু দলের চাপে পিষ্ট সাধারণ পেশাজীবীরা।
অমান/বিক নির্যাতন: টাকা না দিলে বন্দুকের মুখে মারধর, নৌকা ও জাল কেড়ে নেওয়া এবং জেলেদের অপ/হরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে।
নিরাপত্তাহীনতায় জেলে পরিবার ও প্রশাসনের প্রতি দাবি
দ/স্যুদের এই লাগাতার দৌরাত্ম্যে হাজারো জেলে পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অনেকেই এখন প্রাণের ভয়ে সুন্দরবনে যেতে সাহস পাচ্ছেন না, যার ফলে তাদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটানোর উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল মনে করছেন, সুন্দরবনকে স্থায়ীভাবে দ/স্যুমুক্ত রাখতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
কয়রার আ/তঙ্কিত জেলে ও বাওয়ালিদের একটাই দাবি—র্যাব, কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশের যৌথ ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মজনু, বাম্বা ও আসাবুর বাহি/নীসহ সকল দ/স্যুকে দ্রুত নির্মূল করা হোক, যাতে তারা নিরাপদে সুন্দরবনে প্রবেশ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।