
ধুপছায়া ডেস্ক
ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের নিরা/পত্তায় যুক্ত হলো এক নতুন মাত্রা। গত ৩১ আগস্ট সুন্দরবনের পাঁচটি সক্রিয় জলদ/স্যু বাহিনীর ৫৯ জন সদস্য র্যাবের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে ও বনজীবীদের জিম্মি করে চাঁ/দাবাজি ও নির্যাতন চালিয়ে আসছিল এসব দ/স্যু বাহিনী। আত্মসমর্পণকারী সদস্যদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতাব বাহিনীর ৮ জন এবং মিজান বাহিনীর ৭ জন সদস্য রয়েছেন।
আত্মসমর্পণের পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে জলদ/স্যুদের ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ অ/স্ত্র ও গোলাবা/রুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
উদ্ধারকৃত অ/স্ত্র: ৪টি শর্ট/গান, ৪৭টি ওয়ান শুটা/রগান, ৪টি পাইপ/গান, ৩টি এয়ারগান এবং ১টি পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেল।
গোলাবারুদ ও সরঞ্জাম: ৫৪১ রাউন্ড তাজা গু/লি, ১৪টি খালি কার্তুজ এবং ৭টি ওয়াকিটকি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, যারা এখনো অপরাধের পথে রয়েছে, তাদের দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুশি/য়ারিও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও বিচরণ নির্বিঘ্ন রাখতে গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশে নিষেধা/জ্ঞা ছিল। সেই নিষেধা/জ্ঞা কাটিয়ে ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবন পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়েছে। বন উন্মুক্ত হওয়ার ঠিক আগের দিন জলদ/স্যুদের এই আত্মসমর্পণ সুন্দরবনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, পর্যটন এবং বনজীবীদের নিরাপদ জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে একটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।