
বিশেষ প্রতিনিধি, আকাশ পাল:
বাগেরহাটের ফকিরহাটে দায়েরকৃত মা/মলা তুলে না নেওয়া, পূর্ব শ/ত্রু/তা এবং চাঁ/দা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সোহেল শিকদার (৩৯) নামের এক ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালককে হাতুড়ি, রাম/দা ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে নৃ/শংসভাবে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী রুমা আক্তার বাদী হয়ে বাগেরহাটের বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমল আদালতে (ফকিরহাট) একটি নালিশী দরখাস্ত দায়ের করেছেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঘটনাটি নিবিড়ভাবে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।
মা/মলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মৌভোগ পশ্চিমপাড়া এলাকার কাঞ্চন শিকদার বাদী হয়ে ২০২৪ সালে মসজিদের ভেতর মার/ধরের ঘটনায় মোঃ ইব্রাহিম শিকদার (২৬) ও হযরত শিকদার (৩৭) সহ ৮ জনের বিরুদ্ধে একটি মা/মলা (জি আর ১০২/২৪) দায়ের করেন। উক্ত মামলায় সোহেল শিকদার সাক্ষী হওয়ায় আসা/মিরা পূর্বে তাকে অপ/হরণের চেষ্টা করে। পরবর্তীতে সোহেল শিকদার বাদী হয়ে আসা/মিদের বিরুদ্ধে আরও একটি মা/মলা (জি আর ১১৩/২৪) দায়ের করেছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ওই মা/মলায় আসা/মিরা জামিনে মুক্তি পেয়ে সোহেল শিকদারকে প্রতিনিয়ত জীবননাশের হুম/কি দিতে থাকে। পরবর্তীতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৭(গ) ধারার মাম/লায় আ/সামিরা আদালতে ‘আর কোনো হুম/কি দেবে না’ মর্মে বন্ড দিয়ে অব্যাহতি পায়। কিন্তু আদালত থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পরপরই তারা সোহেল শিকদারের নিকট মাম/লার খরচ বাবদ ২,০০,০০০ (দুই লক্ষ) টাকা চাঁ/দা দাবি করে।
তারিখ থাকায়, তার ১৫ দিন আগে আসামিরা ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে পুনরায় দুই লক্ষ টাকা চাঁ/দা দাবি করে এবং মা/মলা তুলে না নিলে প্রা/ণনাশের হুম/কি দেয়। আ/সামিদের ভয়ে ভুক্তভোগী সোহেল শিকদার ওইদিন আদালতে সাক্ষী দিতে যাননি। এর জের ধরে ওইদিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার সময় সোহেল শিকদার মৌভোগ পশ্চিমপাড়া বরকতের মোড়ে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা আসা/মিরা রা/মদা, হাতুড়ি, লোহার রড ও শাবল নিয়ে তার গতি রোধ করে আকস্মিক হাম/লা চালায়।
নালিশী দরখাস্তে বাদী উল্লেখ করেন, ১ নং আ/সামি হাতুড়ি দিয়ে সোহেলের মাথায় আঘা/ত করলে তার মাথার হাড় ভেঙে মারাত্মক জখম হয়। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে ২ নং আসা/মি রা/মদা দিয়ে পায়ের রগ কাটার উদ্দেশ্যে কো/প মারেন, যা তার ডান পায়ের তালুতে লেগে র/ক্তাক্ত জখম হয়। এছাড়া অন্যান্য আ/সামিরা লোহার রড ও শাবল দিয়ে পিটিয়ে তার ডান পায়ের হাঁটু ভেঙে দেয় এবং কোমর ও পিঠে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে বাদী জানান, হাতুড়ির প্রচণ্ড আঘাতে ভুক্তভোগীর কিডনিও প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে।
হাম/লার পর আসা/মিরা সোহেলকে মৃ/ত ভেবে তার মোটরসাইকেলটি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ও সাক্ষীরা এগিয়ে এসে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ফকিরহাট হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
ভুক্তভোগী খুলনায় চিকিৎসাধীন থাকায় এবং ঘটনার বিবরণ গোছাতে আদালতে এই নালিশী দরখাস্ত দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী আরজিতে উল্লেখ করেছেন। আদালত দরখাস্তটি আমলে নিয়ে ঘটনাটির সত্যতা উদ্ঘাটনে পিবিআই-কে দায়িত্ব দিয়েছেন।