1. admin@dhupchaya.com : admin :
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাগেরহাটের কচুয়ায় জাতীয় যুব দিবস পালিত সনদ ও যুব ঋণের চেক বিতরণ রূপসা কলেজের প্রভাষক দু/র্বৃত্তের গু/লিতে আহত হওয়ায় বিচারের দাবিতে মানববন্ধন প্রধানমন্ত্রী খুলনায় আগমন উপলক্ষে রূপসায় প্রস্তুতি সভায় এমপি হেলাল রূপসায় প্রেস ব্রিফিংএর মাধ্যমে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা আলহাজ্ব মো. মহিউদ্দিন শেখের অবশেষে ধরা পড়লেন দক্ষিণের ‘মা/দক সম্রাজ্ঞী’ চম্পা, আমতলীতে স্বস্তির হাওয়া বাগেরহাটে বাংলালিংক কর্মীকে কু/পিয়ে লক্ষাধিক টাকা ছিন/তাই আমতলীতে মা/দক ব্যবসায়ী, সহযোগী ও পৃষ্ঠপোষকতাকারীকে গ্রে/ফতার ফাউন্ডেশনের ৯৫তম বোর্ড সভার দিকে তাকিয়ে ৭৪৫ কর্মী: চাকরি স্থায়ীকরণ ও বকেয়া সুবিধার দাবি সাপাহারে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু ও হামে একদিনে ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৫০

ভারতীয় নাগরিকত্বের তথ্য মিলেছে, তবুও স্কুলে বহাল তবিয়তে প্রধান শিক্ষক

ধুপছায়া ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার খড়িয়া নবারুণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিকত্ব ও ভোটার হওয়ার অভিযোগের তদন্তে তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসনের দপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় তার নাম থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। এরপর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) তাকে শোকজও করেছে। তবে অভিযোগ ওঠার এক মাসের বেশি সময় পরও তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

গত ২৯ জুন দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘পশ্চিমবঙ্গের ভোটার হয়েও খুলনায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনে তৎপরতা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে আলোচনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, দীপক চন্দ্র সরকার একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের নাগরিকত্বের সুবিধা ভোগ করে আসছেন। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

প্রশাসনের নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে পাইকগাছার ইউএনও ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী উল্লেখ করেন, ভোটার তালিকা পর্যালোচনা করে দীপক চন্দ্র সরকারের পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হয়। ফলে একজন বিদেশি নাগরিকের এমপিওভুক্ত পদে থাকার বিষয়টি প্রশ্নসাপেক্ষ।

এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা বিষয়টি গুরুতর ও স্পর্শকাতর উল্লেখ করে মাউশির মহাপরিচালকের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রতিবেদন পাঠান।

নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে উপজেলা রিসোর্স কর্মকর্তা মো. ঈমান উদ্দিন ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর একটি তদন্ত প্রতিবেদন দেন। পরে ইউএনওর নির্দেশে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান আলীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি আরেকটি প্রতিবেদন দেয়। একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম ছায়েদুর রহমানও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করেন।

অভিযোগের মধ্যে ছিল বিদ্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগে অনি/য়ম, আর্থিক লেনদেন এবং অনুদানের অর্থ ব্যয়ে অনি/য়ম। তদন্তসংশ্লিষ্ট নথিতে এসব অভিযোগের বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে।

২০২৪ সালের ১২ জুলাই বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী ও আয়া পদে তিনজনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাদের মধ্যে একজন প্রধান শিক্ষকের ভাইপো এবং অন্যজন তার শ্যালিকা। এ নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করা হয়। তবে সংশ্লিষ্টদের নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে বিভিন্ন পর্যায়ে অসংগতি উঠে এলেও অভিযোগের সবকটি বিষয়ে একই ধরনের সিদ্ধান্ত পাওয়া গেছে—এমনটি নথি থেকে স্পষ্ট নয়।

নিয়োগের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই প্রতিবাদ কর্মসূচি, মানবন্ধন ও স্মারকলিপি দেন। পরে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন লিখিতভাবে জানান, ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত তারা কোনো নিয়োগপত্র পাননি এবং কর্মস্থলেও যোগ দেননি।

বিদ্যালয়ের ২০২২–২৩ অর্থবছরের প্রণোদনা অনুদানের পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় নিয়েও অভিযোগ ওঠে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষক, সুবিধাবঞ্চিত ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা যথাযথভাবে ব্যয় করা হলেও অবশিষ্ট অর্থের ব্যয়ের বিল-ভাউচার যথাযথ নয়।

মাউশির উপপরিচালক (বেসরকারি মাধ্যমিক-১) মো. জাকির হোসেন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে দীপক চন্দ্র সরকারকে ১০ কার্যদিবসের সময় দিয়ে শোকজ করা হয়েছিল। তিনি প্রথম নোটিশের জবাব দেননি। পরে দ্বিতীয় দফায় নোটিশ দেওয়া হলে তিনি লিখিত জবাব দিয়েছেন।

দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে জানতে চাইলে জাকির হোসেন বলেন, সব প্রতিবেদন মহাপরিচালকের দপ্তরে উপস্থাপন করা হবে। এরপর মহাপরিচালক বিষয়টি পর্যালোচনা করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন।

তবে ভারতীয় নাগরিকত্ব বা ভোটার হওয়ার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকার।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকার যাতে স্কুল এলাকায় প্রবেশ করতে না পারেন, সে ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা। তারা আরও বলেন, প্রধান শিক্ষকের কারণে স্কুল বা এলাকার কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার প্রশাসনকে নিতে হবে। পরিশেষে প্রধান শিক্ষকের শাস্তিসহ বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুচিন্তিত মতামত কামনা করেছেন তারা।

তিনি বলেন, “আমি এ দেশের নাগরিক। আমি নিজে ভারতে ভোটার হইনি। কেউ আমাকে ফাঁসানোর জন্য ভারতের ভোটার তালিকায় আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে।”

বিদ্যালয়ের অনুদানের অর্থ আত্মসাৎ কিংবা নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে এলাকার সাধারণ জনগণ বলেন, “যদি আরও কিছুদিন তিনি এই স্কুলে থাকেন, তাহলে আমাদের বড় ধরনের কোনো ক্ষতি করে যেতে পারেন” বলে এলাকাবাসীর ধারণা।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
উপদেষ্টা মন্ডলী-এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পি,  প্রকাশক-ডিকে মন্ডল, সম্পাদক ডাঃ খাঁন মোঃ শফিকুল ইসলাম, সহ-সম্পাদক-ডাঃ মোঃ  আনিসুজ্জামান, আইন বিষয়ক সম্পাদক-এ্যাড. মুজাহিদুল ইসলাম,স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক -ডাঃ বিজন বিশ্বাস  রেজিষ্ট্রেশন নং-খুলনা-৪৬৫, অফিস ৩০০/১খানজাহান আলী রোড়, খুলনা। বানিজ্যিক কার্যালয়-রূপসা সদর, খুলনা ০১৮১৯-০১৬৩৪২।© স্বত্ব সংরক্ষিত © ধুপছায়া
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park