
রূপসা প্রতিনিধি
রূপসা উপজেলার বেলফুলিয়া ইসলামিয়া হাই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদ থেকে দীর্ঘদিনের ত্যাগী বিএনপি নেতা শেখ আব্দুর রশিদকে বাদ দিয়ে হাফিজুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া ঘিরে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
সাবেক খুলনা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও বর্তমান জেলা কমিটির সদস্য শেখ আব্দুর রশিদ দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে রাজপথে সক্রিয় থেকে রূপসা উপজেলা বিএনপিকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখেছেন। তিনি ২০০১ পরবর্তী সংসদ নির্বাচনগুলোতে খুলনা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থীর চিফ প্রোলিং/নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। হামলা-মামলা মোকাবিলা করা এমন একজন পরীক্ষিত নেতাকে বাদ দিয়ে বেলফুলিয়া স্কুলের সভাপতির আসনে হাফিজুর রহমানকে বসানো নিয়ে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা:
আওয়ামী লীগ নেতাকে আশ্রয় প্রদান: গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবুল রানাকে দীর্ঘ সময় নিজ বাড়িতে আশ্রয় দেওয়া ও পরবর্তীতে নিরাপদে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বিগত সময়ে আওয়ামী লীগে সম্পৃক্ততা: অতীতে খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে তার নিয়মিত যাতায়াত এবং দলটির বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।
মামলার বাদীর সাথে যোগাযোগ: বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ও চেরিটেবল ট্রাস্ট মামলার অন্যতম বাদী ও সাবেক দুদক কর্মকর্তা সাইদুর রহমানের ভূমিকা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
তৃণমূল বিএনপি ও এলাকাবাসীর প্রশ্ন—কোন প্রক্রিয়ায়, কার সিদ্ধান্তে এবং কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থের বিনিময়ে বিধিমালা তোয়াক্কা না করে হাফিজুর রহমানকে এই পদে বসানো হলো? একই সাথে, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিতর্কিত ব্যক্তিদের কীভাবে পুনর্বাসন করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তার নিরপেক্ষ ও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রতীক ছবি