
বিশেষ প্রতিনিধি আকাশ পাল
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে টানা ছয় দিনের ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে পৌর শহরসহ উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পৌরসভার ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে শত শত মৎস্যঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় লাখ লাখ টাকার মাছ ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা বর্ষণে উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার নিম্নাঞ্চলে পানি জমে বসতবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন শত শত দিনমজুর। ঘরবন্দি হয়ে পড়ায় অনেক পরিবার দুর্ভোগে রয়েছে। জিউধরা ও বহরবুনিয়া ইউনিয়নের শত শত মৎস্যঘের পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
এদিকে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও পানির চাপে পানগুছি নদীর তীরবর্তী কাঠালতলা, গাবতলা, বারইখালী, পাঠামার ও বদনীভাঙ্গাসহ কয়েকটি এলাকায় নতুন করে নদীভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পৌর শহরের উত্তর সরালিয়া, পশ্চিম সরালিয়া, আদর্শপাড়া, নব্বইশী বাসস্ট্যান্ড, সরকারি সিরাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজ, সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, এসআই ক্যাডেট একাডেমি ও সোনালী ব্যাংক সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও সড়কের খানাখন্দের কারণে যান ও পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
খাউলিয়া, মোরেলগঞ্জ সদর, পুটিখালী, পঞ্চকরণ, বহরবুনিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মোট ৩০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক পরিবার রান্নাবান্না করতেও পারছে না।
ক্ষতিগ্রস্ত ঘের মালিকরা জানান, ঋণ নিয়ে বাগদা, গলদা ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করেছিলেন। টানা বর্ষণে ঘের তলিয়ে যাওয়ায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বৃষ্টি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়বে বলে তাদের আশঙ্কা।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রনজিৎ কুমার বলেন, নিচু এলাকার কিছু মৎস্যঘের প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক হাবিবুল্লাহ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার খোঁজখবর নিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পৌর শহরের যেসব এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে দ্রুত পানি অপসারণের কাজ চলছে। আর যেসব এলাকায় ড্রেনেজ নেই, সেখানে বরাদ্দ সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।