
বিশেষ প্রতিনিধি আকাশ পাল
বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন সরকারি খাল অবৈধ দখলমুক্ত করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তিন দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন এলাকাবাসী ও সামাজিক সংগঠন ‘অ্যাক্টিভিস্টা বাগেরহাট’। রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রথম দিনের কর্মসূচি পালন করা হয়।
আন্দোলনকারীদের মতে, জেলার অধিকাংশ সরকারি খাল দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তি ও প্রভাবশালী মহলের অবৈধ দখলে রয়েছে। খালের বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ও পাটা নির্মাণ করে মাছ চাষের ফলে স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, কৃষিজমিতে সময়মতো পানি না পৌঁছানো, নৌযান চলাচলে বিঘ্ন, কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
কর্মসূচি থেকে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে জেলার সরকারি খালগুলো জরুরি ভিত্তিতে দখলমুক্ত করা, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, খালের সীমানা সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতে পুনরায় দখল রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
আন্দোলনকারীদের দাবি, সাতফুলের খাল, ইমামবাড়ী খাল, খুন্তাকাটা খাল, মান্দারতলা খাল, রাম বাবুর খাল, বাদুখালীর খাল, পদ্মবিল-আমতলা খাল, হোজির খালসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি খাল দ্রুত দখলমুক্ত করতে হবে।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আবেদন, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হলেও অধিকাংশ খাল এখনো অবৈধ দখলমুক্ত হয়নি। একসময় এসব খাল থেকে বহু পরিবার জীবিকা নির্বাহ করলেও বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ও পাটা দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণ করে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এতে কৃষিকাজ, চিংড়ি চাষ এবং স্বাভাবিক পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় কৃষকরা প্রয়োজনের সময় পানি পাচ্ছেন না, আবার অপ্রয়োজনীয় সময়ে পানি ছেড়ে দেওয়ায় কৃষি উৎপাদন ক্ষতির মুখে পড়ছে।
এদিকে, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক (রাহাদ) নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই সরকারি খালগুলোকে অবৈধ দখলের হাত থেকে রক্ষা এবং জনগণের জন্য উন্মুক্ত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছেন। ইতোমধ্যে জেলার কয়েকটি সরকারি খাল দখলমুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ এবং চলমান কার্যক্রমের মাধ্যমে।