
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট | বাগেরহাটে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের নামে ভু/য়া প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্ম/সাতের এক নজিরবিহীন অভিযোগ উঠেছে। মসজিদের কোনো অস্তিত্ব না থাকলেও নথিপত্র জালিয়াতি করে টাকা তুলে নেওয়ার এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের তির উঠেছে মোরেলগঞ্জ উপজেলার গাজিরঘাট গ্রামের বাসিন্দা ও ‘২৪-এর জনতা বাহিনী’র জেলা পর্যায়ের নেতা মোঃ মাকসুদুর রহমান ওরফে মামুনের বিরুদ্ধে।
কাগজে-কলমে কাজ শেষ, বাস্তবে নেই মসজিদ
অনুসন্ধানে জানা যায়, বাগেরহাট জেলা পরিষদের নথিতে মোরেলগঞ্জ উপজেলার দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়নের মাদারবুনিয়া জামে মসজিদের উন্নয়নের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে প্রকল্প পরিদর্শন শেষ হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এমনকি নথিতে ঢালাই কাজের ভাউচার ও কাজ সম্পন্নের ভু/য়া ছবিও জমা দেওয়া হয়েছে।
তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। স্থানীয়দের সহায়তায় জরাজীর্ণ ভবন ভেঙে নতুন কাজ শুরু হলেও অর্থ সংকটে বর্তমানে মসজিদের নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। অস্থায়ী ছাপড়ায় নামাজ পড়ছেন মুসল্লিরা। মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা সরকারি কোনো বরাদ্দ পাননি এবং নথিতে থাকা ছবিগুলো তাদের মসজিদের নয়।
দু/র্নীতি এখানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। দক্ষিণ মাঝিরঘাট মুন্সিবাড়ি জামে মসজিদ এবং মাধববুনিয়া জামে মসজিদের নামেও পৃথক দুটি প্রকল্পে অর্থ উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে জেলা পরিষদের নথিতে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক জনপ্রতিনিধিদের দাবি, ওই এলাকায় এই নামে কোনো মসজিদের অস্তিত্বই নেই।
এই জা/লি/য়াতি চ/ক্রের মূলহোতা হিসেবে স্থানীয়রা গাজিরঘাট গ্রামের মোঃ মাকসুদুর রহমান মামুনকে চি/হ্নিত করেছেন। তিনি ‘৭১ মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রাম পরিষদ’ ও ‘২৪-এর জনতা বাহিনী’র বাগেরহাট জেলা কমিটির সদস্য হিসেবে পরিচিত।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামুন দাবি করেন, তিনি জনৈক সাবেক সচিবের মাধ্যমে এই বরাদ্দ করিয়েছিলেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ অস্বীকার করলেও এক পর্যায়ে তিনি জানান, জেলা পরিষদ থেকে নেওয়া এই অর্থ তিনি ফেরত দিয়ে দেবেন।
এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, “ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে এমন জা/লিয়াতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরু/দ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার করে সরকারি অর্থ লুটপাটের এই ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা অতি দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দো/ষীদের দৃষ্টান্তমূলক শা/স্তির দাবি জানিয়েছেন।