
খুলনা প্রতিনিধি
পারিবারিক কলহ ও একাধিক ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে খুলনায় আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) নামের এক কিশোরীকে পিটিয়ে হ/ত্যা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অপ/রাধ ঢাকতে নির্মম এই হ/ত্যাকাণ্ডের পর নিজের সন্তানের ম/রদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে রাস্তার পাশে ফেলে দেন স্বয়ং বাবা-মা।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) ঘটনার মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর হ/ত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে। এ ঘটনায় জড়িত নিহ/তের মা আরিফা ইয়াসমীন সীমাকে গ্রে/প্তার করে কারাগারে পাঠানো হলেও ঘা/তক বাবা আলীম হোসেন আকাশ এখনো পলাতক।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কেএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এই লোমহর্ষক ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নি/হত নির্জনা সোনাডাঙ্গার বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার আলীম হোসেন আকাশের মেয়ে। একাধিক ছেলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে—এমন অভিযোগে পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নির্জনার বিরোধ ও কলহ চলছিল।
তদন্ত ও মায়ের দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘটনার রাতে প্রেমের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে মা ও মেয়ের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মা আরিফা ইয়াসমীন সীমা ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়েকে চড়-থাপ্পড় মারতে শুরু করেন। চিৎকার শুনে পাশের ঘর থেকে বাবা আলীম হোসেন আকাশ একটি কাঠের বাতা (কাঠের টুকরো) নিয়ে এসে মেয়েকে আ/ঘাত করেন। সেই আঘাতটি সরাসরি নির্জনার মাথায় লাগলে অতিরিক্ত র/ক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃ/ত্যু হয়।
হ/ত্যাকাণ্ডের পর নিজেদের বাঁচাতে এবং ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে নির্জনার ম/রদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরেন বাবা-মা। এরপর রাতের আঁধারে সেটি খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি গলিতে ফেলে আসেন। গত ৮ জুলাই রাতে পুলিশ ওই এলাকা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় নির্জনার ম/রদেহটি উদ্ধার করে তদন্তে নামে।
হ/ত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মা/মলা দায়ের করার পর মা আরিফা ইয়াসমীন সীমাকে গ্রে/প্তার করা হয়। আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে সীমা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দাবি করেন, তার স্বামী মেয়ের শরীরে আ/ঘাত করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেটি দুর্ঘ/টনাবশত মাথায় লেগে যায়।
আদালত সীমাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন বাবা আলীম হোসেন আকাশ। তাকে গ্রে/প্তারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কেএমপি।
ছবি সংগ্রহীত