
ডাঃ মোঃ মুহিববুল্লাহ আল মামুন, স্টাফ রিপোর্টার : যে বয়সে শিশুদের বই-খাতা আর খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, সে বয়সে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে ১০ বছরের শিশু মোঃ আলামিন হোসেন। পিতার মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরতে বাধ্য হয়ে সে এখন ঢাকা-খুলনা রুটের বাসে বাসে ঘুরে বুট ভাজা বিক্রি করছে। তবুও থেমে যায়নি তার লেখাপড়া। জীবনের কঠিন বাস্তবতার মাঝেও সে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে।
জানা যায়, আলামিন ফকিরহাট উপজেলার ফলতিতা বাজার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। সে বর্তমানে ফকিরহাটের আড়ুয়াডাঙ্গা ইবতেদায়ী মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। তার পিতা মৃত কবির হোসেন পেশায় একজন ড্রাইভার ছিলেন। কয়েক বছর আগে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই পুত্র সন্তান রেখে যান। বড় ছেলে আলামিনের বয়স বর্তমানে ১০ বছর এবং ছোট ছেলের বয়স মাত্র ৭ বছর। পরিবারের উপার্জনের একমাত্র ব্যক্তি হারিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্দশায় পড়ে পরিবারটি। তেমন কোনো সম্পদ বা সঞ্চয় না থাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে ছোট্ট আলামিন ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে না নিয়ে সম্মানের সঙ্গে উপার্জনের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতিদিন ঢাকা-খুলনা গামী বিভিন্ন বাসে উঠে বুট ভাজা বিক্রি করে সে সংসারের খরচ ও নিজের লেখাপড়ার ব্যয় চালানোর চেষ্টা করছে।
স্থানীয়রা জানান, আলামিন অত্যন্ত ভদ্র, পরিশ্রমী ও মেধাবী একটি ছেলে। অভাব-অনটনের মধ্যেও সে নিয়মিত মাদ্রাসায় যায় এবং পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তার এই সংগ্রামী জীবন অনেকের হৃদয় স্পর্শ করেছে। সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান
মানুষের সহযোগিতা পেলে আলামিনের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তারা জানান, একটু সহযোগিতা পেলে হয়তো শিশুটিকে আর জীবিকার তাগিদে বাসে বাসে ঘুরে বেড়াতে হবে না; সে সুন্দরভাবে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে সমাজের একজন প্রতিষ্ঠিত মানুষ হতে পারবে।