
বি.সরকার। পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি
খুলনার পাইকগাছায় বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সোলাদানা ইউনিয়নের বারবার নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান এসএম এনামুল হক মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার খরচ জোগাতে না পেরে নিজের সন্তান বিক্রির মতো চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া এক অসহায় মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি নগদ ৫০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেছেন।
দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাতে জর্জরিত উপজেলার রেজাকপুর গ্রামের একটি পরিবারে এ হৃদয়বিদারক ঘটনার সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি-র চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে পরিবারটি একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। চার কন্যা সন্তানের জননী শাহিদা বেগম
এহেন পরিস্থিতিতে স্বামীর জীবন বাঁচাতে এবং পরিবারের অন্নসংস্থানের কোনো পথ না দেখে তার ছোট শিশুসন্তানকে বিক্রির কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
জনদরদী এনামুল হক ঘটনা জানতে পেরে ২৯ মার্চ রবিবার পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের সান্ত্বনা দেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে স্বামীর চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন। পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থাও করেন এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এসময় তিনি বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য। একজন মা যখন সন্তানের বিক্রির মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন, তখন সমাজ হিসেবে আমাদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এই সামান্য সহায়তার মাধ্যমে একটি পরিবারের কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করেছি।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এসএম ইমদাদুল হক, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ সেলিম নেওয়াজ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন মানিক, ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান পিযুষ কান্তি মন্ডলসহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
স্থানীয়রা এনামুল হকের এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তার এই সহায়তায় শিশুটি মায়ের কোলেই থেকে গেছে এবং পরিবারটি নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে। যা রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো বর্তমান সময়ে অত্যন্ত প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, রেজাকপুর গ্রামের বাসিন্দা আরশাদ গাজীর ছেলে আফতার গাজী দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন। দীর্ঘ চিকিৎসায় সর্বস্ব হারিয়ে ফেলার পর তার স্ত্রী শাহিদা বেগম বাধ্য হয়ে সন্তানের বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এগিয়ে আসার আগ্রহ প্রকাশ করছেন