
খাঁন মোঃ শফিকুল ইসলাম
খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের রেজাকপুর গ্রামে এক মানবিক বিপর্যয় ফুটে উঠেছে। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে সম্মুখ সারির যো/দ্ধা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এবং চার কন্যাসন্তানের জনক মোঃ আত্তাব গাজী দুরারোগ্য ব্যাধি লিভার টিউমারে আক্রান্ত। কিন্তু অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় দিনাতিপাত করছেন তিনি।
আত্তাব গাজী একাধিকবার হা/মলা ও হা/মলার শিকার হয়েছেন। অথচ দলের কোনো নেতার কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাননি। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট কুঁড়েঘরে চার কন্যাসন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন আত্তাপ গাজী। বসবাসের জন্য তার মাত্র দুই কাঠা জমি রয়েছে। সাংবাদিকদের দেখে তিনি বিছানা থেকে উঠে বসেন এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি জানতে চান।
আত্তাব গাজী বলেন, “এখন আপনারা সঠিক সংবাদ লিখবেন। আমার নেতা প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। দেশে এখন শান্তি আসবে। আমার জীবনে আর কোনো চাওয়া নেই।” তবে তার আক্ষেপ, “দুঃখ একটাই, আমার ম্যাডাম দেখে যেতে পারলেন না। তারপরও জীবনের শেষ ইচ্ছা ম্যাডামের কবর জিয়ারত ও প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করা।”
তারেক রহমানের কথা বলতে গিয়ে তিনি কেঁদে ফেলেন, “জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমি বিএনপির জন্য নিবেদিত থাকব। আমার আর শক্তি নেই কীভাবে যাবো।” পিতার কান্না দেখে তার চার কন্যা এবং স্ত্রী শাহিদা খাতুনও কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রতিবেশীরাও এই দৃশ্য দেখে অশ্রুসজল হয়ে পড়েন।
স্ত্রী শাহিদা খাতুন জানান, বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে তাদের ব্যবসা ও মাছের ঘের সব শেষ হয়ে গেছে। পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্যাতনে আত্তাব গাজী একাধিকবার জেল খেটেছেন এবং বাড়িতে থাকতে পারেননি। তিনি বলেন, “চার কন্যা নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করলেও কোনো নেতা আমাদের সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেননি। প্রতিদিন ৫০০ টাকার ওষুধ লাগে। চেয়েচিন্তে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি।”
শাহিদা খাতুন আরও বলেন, “আমার স্বামীর চিকিৎসার জন্য আমার একটি কন্যা সন্তান বিক্রি করতে চাই।” তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে এ বিষয়ে সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সম্পাদকীয় নোট: এই খবরটি একটি গুরুতর মানবিক সংকটের দিকে ইঙ্গিত করে। দলীয় কোন্দল বা উদাসীনতার কারণে একজন নিবেদিত কর্মী এবং তার পরিবার কীভাবে চরম কষ্টের শিকার হতে পারেন, তা এই ঘটনার মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। আশা করা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিএনপির নেতৃবৃন্দ এই বিষয়টিতে দ্রুত নজর দেবেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।