
খাঁন মোঃ শফিকুল ইসলাম
খুলনায় আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শিশুদের রোগব্যাধি। গত কয়েক মাস ধরে খুলনা শিশু হাসপাতালে জ্বর, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগীর ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বহির্বিভাগে (আউটডোর) প্রতিদিন গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ শিশু চিকিৎসা নিতে আসছে। অন্যদিকে, ইনডোরে ২৭৫টি শয্যার বিপরীতে গত দুই মাস ধরে কোনো সিট খালি নেই। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে নতুন রোগী ভর্তি নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে শিশুরা দ্রুত মৌসুমী রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। এছাড়া হামে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যাও বাড়ছে, তবে ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
চিকিৎসা নিতে আসা অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভিড় বেশি থাকায় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দিঘলিয়া থেকে আসা এক শিশু রোগীর স্বজন জানান, শরীরের র্যাশ বা গুটি দেখা দেওয়ায় শঙ্কা থেকে তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে এসেছেন। আবার মিস্ত্রিপাড়া থেকে আসা তোফাজ্জল হোসেন জানান, তার নাতনি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দুই দিন ধরে ভর্তি আছে, তবে বর্তমানে শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে।
খুলনা শিশু হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রদীপ দেবনাথ বলেন,”গত তিন মাস ধরে রোগীর চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে ৩-৪ গুণ বেশি। আমরা সাধ্যমতো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। এই সময়ে শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হতে হবে। শিশুদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, নিরাপদ পানি পান করানো এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা থেকে শিশুদের দূরে রাখার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।