
কয়রা”(খুলনা)প্রতিনিধি মোঃমোস্তাফিজুর রহমান (হেলাল)
খুলনার সর্ব দক্ষিণের উপকূলীয় জনপদ কয়রা। সুন্দরবন ঘেঁষা এই উপজেলার প্রায় কয়েক লক্ষ মানুষের বসবাস। জেলে, বাওয়ালি, কৃষক, দিনমজুর – খেটে খাওয়া গরীব অসহায় মানুষ দিনরাত পরিশ্রম করে সন্তানদের মানুষ করার স্বপ্ন দেখছেন। সেই স্বপ্নের জনপদে এখন বিষাক্ত ছোবল মারছে মাদ/ক ও জু/য়া।
অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার প্রতিটি গ্রাম-মহল্লায় ছড়িয়ে পড়েছে জু/য়া, গাঁ/জা ও ইয়া/বা। আর এই মাদ/কের বিষাক্ত থাবায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যুব সমাজ ও স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা আর জু/য়াতে আসক্ত হচ্ছে সবধরণের মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী, উত্তর বেদকাশী, মহেশ্বরীপুর, মহারাজপুর, বাগালী, আমাদী ও কয়রা সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ছোট এজেন্টদের মাধ্যমে প্রকাশ্যে গাঁ/জা-ইয়া/বা বিক্রি হচ্ছে। হাত বাড়ালেই মিলছে মা/দক। ফলে স্কুল পড়ুয়া কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে যুবকরা দ্রুত আসক্ত হয়ে পড়ছে। অনেক পরিবার সন্তানদের নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে,আর জু/য়ার কারণে সর্বশান্তো হচ্ছে অনেক মানুষ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, “আমরা আমাদের সন্তানদের নিয়ে খুব আতঙ্কে আছি। সন্ধ্যা হলেই বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে মাদ/কের হাতবদল হয়। ছোট ছোট ছেলেরা পর্যন্ত নেশা করে। আমরা প্রতিবাদ করতে গেলে ভ/য়ে করতে পারি না। কারণ এর পেছনে প্রভাবশালী মহল রয়েছে, আর জু/য়া তো আছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়রা থানায় নতুন (ওসি) হিসেবে রাশেদুল আলম যোগদানের পর থেকেই জু/য়া ও মা/দকের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে কয়েকজনকে আটক ও করা হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, যারা ধরা পড়ছে তারা সবাই ছোট এজেন্ট, মাঠ পর্যায়ের বাহক মাত্র। তাদের পেছনে থাকা প্রভাবশালী ও মূল হোতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রভাবশালী অসাধু লোকের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে এই মা/দকের সাপ্লাই চেইন চলে আসছে।
একজন সচেতন অভিভাবক বলেন, “পুলিশ ছোটদের ধরছে এটা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু গোড়া কেটে না ফেললে এই মাদ/ক নির্মূল হবে না। আমরা চাই মা/দক সরবরাহ কারী ও জু/য়ারি আইনের আওতায় আনা হোক।
উপকূলীয় এই জনপদকে জু/য়া ও মা/দকের ভয়াল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনের আরও কঠোর ও গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযানের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, শুধু বাহক নয়, এর পেছনের মূল কারিগরদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শা/স্তির আওতায় আনলে তবেই রক্ষা পাবে কয়রার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।