1. admin@dhupchaya.com : admin :
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাগেরহাটের কচুয়ায় জাতীয় যুব দিবস পালিত সনদ ও যুব ঋণের চেক বিতরণ রূপসা কলেজের প্রভাষক দু/র্বৃত্তের গু/লিতে আহত হওয়ায় বিচারের দাবিতে মানববন্ধন প্রধানমন্ত্রী খুলনায় আগমন উপলক্ষে রূপসায় প্রস্তুতি সভায় এমপি হেলাল রূপসায় প্রেস ব্রিফিংএর মাধ্যমে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা আলহাজ্ব মো. মহিউদ্দিন শেখের অবশেষে ধরা পড়লেন দক্ষিণের ‘মা/দক সম্রাজ্ঞী’ চম্পা, আমতলীতে স্বস্তির হাওয়া বাগেরহাটে বাংলালিংক কর্মীকে কু/পিয়ে লক্ষাধিক টাকা ছিন/তাই আমতলীতে মা/দক ব্যবসায়ী, সহযোগী ও পৃষ্ঠপোষকতাকারীকে গ্রে/ফতার ফাউন্ডেশনের ৯৫তম বোর্ড সভার দিকে তাকিয়ে ৭৪৫ কর্মী: চাকরি স্থায়ীকরণ ও বকেয়া সুবিধার দাবি সাপাহারে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু ও হামে একদিনে ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৫০

​উপকূলীয় জনপদ কয়রায় পানির হাহাকার: ৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মিলছে এক কলস পানি

ধুপছায়া ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬
  • ৯৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

খাঁন মোঃ শফিকুল ইসলাম  
​জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় সুপেয় পানির সংকট ভ/য়া/বহ আকার ধারণ করেছে। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রায় দুই লাখ মানুষ এখন এক ফোঁটা মিঠাপানির জন্য রীতিমতো যু/দ্ধ করছে। কোথাও ৪ কিলোমিটার পথ হেঁটে পুকুরের পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে, আবার কোথাও এক কলস পানির জন্য টিউবওয়েলের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
​উপজেলার ৬নং কয়রা গ্রামের বাসিন্দা বাসন্তী মুন্ডার দিন শুরু হয় পানির সন্ধানে। তিনি জানান, প্রতিদিন ভোরবেলা ঘর থেকে বের হয়ে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরের একটি সরকারি পুকুর থেকে তাকে পানি আনতে হয়। দিনে কয়েকবার এই যাতায়াত করতে গিয়ে সংসারের অন্য কাজ করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
​একই চিত্র আমাদী, বাগালি, মহেশ্বরীপুর, মহারাজপুর ও কয়রা সদর ইউনিয়নে। ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এই উপজেলার জনসংখ্যা ২ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি। বিপুল এই জনসংখ্যার বিপরীতে সুপেয় পানির স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেই বললেই চলে।
​নদীবেষ্টিত এই জনপদে চারদিকে পানি থাকলেও তা পানের অযোগ্য। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অধিকাংশ গভীর নলকূপ এখন অকেজো। যেসব নলকূপ সচল আছে, সেগুলোতেও উঠছে অতিরিক্ত লবণাক্ত পানি। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা দূ/ষিত পুকুরের পানি পান করছেন, যা ভ/য়া/বহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
​আমাদী ইউনিয়নের বামনডাঙ্গা গ্রামের চিত্র আরও করুণ। ছয়টি গ্রামের কয়েকশ পরিবার একটিমাত্র সচল টিউবওয়েলের ওপর নির্ভরশীল। সেখানে এক কলস পানি ভরতে সময় লাগছে ১০ থেকে ১৫ মিনিট। তীব্র গরমে পানির স্তর নিচে নেমে গেলে অনেককে খালি হাতেই ফিরতে হয়।
​পানির এই সংকট শুধু জনস্বাস্থ্যের ওপর নয়, প্রভাব ফেলছে শিক্ষা ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও। উপজেলার ১৪১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা নিরাপদ পানির অভাবে ভুগছেন। মিঠাপানির সংকটে অনেকে গৃহপালিত পশুপালন ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
​কয়রা উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ মনিরুজ্জামান মনু মনে করেন, কেবল প্রকল্প গ্রহণ করলেই হবে না, বরং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং পুকুর খনন করে পিএসএফ (পন্ড স্যান্ড ফিল্টার) স্থাপন ও তার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণই হতে পারে টেকসই সমাধান।
​উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ইস্তিয়াক আহমেদ সংকটের কথা স্বীকার করে জানান, সরকারিভাবে গভীর নলকূপ ও পানির ট্যাংক বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে এই সমস্যা কিছুটা লাঘব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
​তবে কয়রার সচেতন মহলের দাবি, খণ্ডকালীন কোনো প্রকল্প নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী এবং পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমেই উপকূলের এই তৃষ্ণার্ত মানুষের মুখে নিরাপদ পানি তুলে দেওয়া সম্ভব।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
উপদেষ্টা মন্ডলী-এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পি,  প্রকাশক-ডিকে মন্ডল, সম্পাদক ডাঃ খাঁন মোঃ শফিকুল ইসলাম, সহ-সম্পাদক-ডাঃ মোঃ  আনিসুজ্জামান, আইন বিষয়ক সম্পাদক-এ্যাড. মুজাহিদুল ইসলাম,স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক -ডাঃ বিজন বিশ্বাস  রেজিষ্ট্রেশন নং-খুলনা-৪৬৫, অফিস ৩০০/১খানজাহান আলী রোড়, খুলনা। বানিজ্যিক কার্যালয়-রূপসা সদর, খুলনা ০১৮১৯-০১৬৩৪২।© স্বত্ব সংরক্ষিত © ধুপছায়া
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park